Wednesday, April 22, 2020

তাওহীদ বা একত্ববাদ । ইসলাম শিক্ষার হাতেখড়ি । পর্ব - ২

Share it Please

আল্লাহকে এক বলে মানাকে আল্লাহর একত্ববাদ বলে। তবে আল্লাহকে এক বলে মানার অর্থ হচ্ছে -
(১) আল্লাহর ক্ষমতায় কাউকে অংশিদার না করা।
(২) আল্লাহর গুণে কাউকে অংশিদার না করা।
(৩) আল্লাহর অধিকারে কাউকে অংশিদার না করা।




এক নম্বর কথার জবাবে আল্লাহ তায়ালা বলেন:
وهو علا كل شيء قدير.  
তিনি (আল্লাহ) অবশ্যই সকল বস্তুর উপর এককভাবে ক্ষমতা রাখেন। যার ক্ষমতার সমতুল্য আর কেহ নাই। (সুরা মায়িদাহ)
এই আয়াতটি পবিত্র কুরআনে পয়তাল্লিশ বার এসেছে।




দুই নাম্বার কথার জবাবে সুরা নামলের ষাট থেকে ছেষট্টি নাম্বার আয়াতে আল্লাহ বলেন : 
(১) তিনি কে, যিনি আসমান জমিনকে সৃষ্টি করেছেন এবং আসমান থেকে গাছের খাদ্য সারসহ পানি বর্ষন করেন যার দ্বারা গাছ-পালা সজীব হয় ?
(২) তিনি কে যিনি চলমান পৃথিবীকে অনড়-অটল করা, পৃথিবীতে পাহাড় গেড়ে দেয়া, দুই ধরনের পানির সমুদ্রকে একই সঙ্গে প্রবাহিত করা, যার মধ্যে প্রাচীর ছাড়াই দুই ধরনের পানি একত্রে মিলিত হয় না, তার ব্যবস্থা করেন ?
(৩) তিনি কে, যাকে তোমরা বিপদে পড়ে ডাক আর তোমাদেরকে তিনি বিপদমুক্ত করেছেন ? আর তোমাদেরকে তার পৃথিবীতে একদল মানুষের পর আরেকদল মানুষকে দিয়ে তার পৃথিবীর আবাদ ঠিক রেখেছেন ?
(৪) তিনি কে , যিনি স্থল ও জলভাগে তোমরা পথ হারিয়ে গেলে তোমাদেরকে পথ দেখান ? আর বাতাসের সঙ্গে বৃষ্টির সংবাদ ও বাতাসে কোটি কোটি টন পানি বয়ে নিয়ে যান যার দ্বারা বৃষ্টি হয়?
(৫) তিনি কে, যিনি প্রত্যেক প্রানী, গাছ-পালাসহ যাবতীয় কিছুকেই একটার পর একটা সৃষ্টি করে পৃথিবীকে সব সময়ই নতুন করে রেখেছেন। একটা গাছ বৃদ্ধ হয়ে মরে যাচ্ছে আবার ছেলেরা যুবক হয়ে পৃথিবীর আবাদকে ঠিক রাখছে এসব ব্যবস্থা কে করে ?
(৬) এই ধরনের ক্ষমতা ও গুন যদি কারো মধ্যে থাকে তবে আল্লাহ তার রাসুল ﷺ কে বলেছেন তার প্রমানাদি হাজির কর। কিন্তু তা পারবে না তবুও তোমরা আল্লাহর গুনের সঙ্গে অন্যকে শরীক করছ। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এসব ক্ষমতা ও গুন একমাত্র আল্লাহর মধ্যেই আছে, অন্য কারো মধ্যে নাই।




তিন নাম্বার কথার জবাবে সুরা ইউসুফের চল্লিশ এবং সাতষট্টি নং আয়াতে আল্লাহ বলেন : 
হুকুমকর্তা ও আইনদাতা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কেহ নয়। সুতরাং আঈনদাতা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কেহ নয়। সুতরাং আঈন তৈরী করার অধিকার যদি কোন মানুষকে দেয়া হয় তবে আল্লাহর অধিকারে তাকে অংশ দেয়া হয়। অতএব, উপরোল্লেখিত তিনটি বিষয়ের কোনটিতে কাউকে অংশীদার না বানানোই হচ্ছে তাওহীদ বা একত্ববাদে বিশ্বাসী হওয়া। 
যদি কেউ উপরে উল্লেখিত তিনটি বিষয়ের যে কোন একটিতেও আল্লাহর সাথে কাউকে অংশীদার বানায় তবে সে-ই মুশরিক।
আল্লাহ পাক সুরা নুরের পঞ্চান্ন নাম্বার আয়াতে বলেছেন : আল্লাহ ওয়াদা করছেন যে, তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান আনবে এবং আমলে সালেহ করবে তাদেরকে আল্লাহ অবশ্যই এই দুনিয়ায় খেলাফত দান করবেন  (যেখানে আল্লাহর আঈন ছাড়া আর কোন আঈনই চলবে না)। যেমন তিনি পূর্ববর্তীদেরকে দান করেছিলেন। তখন দ্বীনকে মজবুত ভিত্তির উপর দাড় করিয়ে দিবেন যা আল্লাহ তাদের জন্য পছন্দ করেছেন। যেভাবে দ্বীনকে মানা পছন্দ আল্লাহ পছন্দ করেন সেভাবে তারা দ্বীনকে মানকে পারবে। আর তখন তাদের সকল প্রকার সামাজিক ভয়-ভীতি নিরাপত্তা দ্বারা পরিবর্তন করে দেয়া হবে। তখন তারা আমার ইবাদত করতে পারবে এবং আমার সঙ্গে আর কাউকেই শরীক করবে না বা শরীক করতে বাধ্যে হবে না।

No comments:

Post a Comment

Blogroll

About