Wednesday, April 13, 2022

দুনিয়ার হাক্বিকত । ইসলাম শিক্ষার হাতেখড়ি । পর্ব - ২৭

আল্লাহ তায়ালা যখন আদম আ. ও হাওয়া আ. কে দুনিয়াতে নামিয়ে দিলেন এবং তারা জান্নাতের সুগন্ধি হারিয়ে দুনিয়ার বায়ু অনুভব করলেন তখন চল্লিশ দিন পর্যন্ত বেহুশ হয়ে ছিলেন। 


Continue Reading...

রাসুল ﷺ এর পছন্দনীয় জীবন । ইসলাম শিক্ষার হাতেখড়ি । পর্ব - ২৬

প্রিয় নবী ﷺ বলেছেন, মক্কার পাথুরে জমিনকে আমার জন্য স্বর্ন ও রৌপ্যতে রুপান্তরিত করার কথা বলা হলো। আমি তখন বললাম, হে রব! আমি তো ইহা পছন্দ করি যে, একদিন খানা খাব আরেকদিন ক্ষুধার্ত অবস্থায় উপোস থাকব। যে দিন খানা খাব, সে দিন আপনার হামদ-সানা প্রশংসা করব। আর যে দিন ক্ষুধার্ত থাকব, সে দিন আপনার নিকট বিনয়-নম্র হব এবং সবর করব, ধৈর্য্য ধরব। (তিরমীযি, মুসনাদে আহমদ)

ফকিহ আবুল লাইস সমরকন্দি রহ. বলেন, উল্লেখিত আলোচনা দ্বারা সুস্পষ্ট হয়ে গেছে যে, দরিদ্রের প্রতি আল্লাহর সীমাহীন দয়া ও অনুগ্রহ রয়েছে। বরং আল্লাহ পাক নবী-রাসুলদেরকে যা দ্বারা সম্মানিত করেছেন, দরিদ্রকে তা দ্বারাই সম্মানিত করেছেন। তাই যারা দরিদ্র তাদের অতিষ্ঠ ও অধৈর্য্য না হয়ে আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিৎ আর আখেরাতের সফলতার আশায় আল্লাহর বিধি-বিধান মেনে চলার ভিতর দিয়েই সচ্ছলতা কামনা করবে।


Continue Reading...

তিনটি বিষয় ছাড়া ঈমানের স্বাদ পাওয়া যায় না । ইসলাম শিক্ষার হাতেখড়ি । পর্ব - ২৫

প্রিয় নবী ﷺ বলেছেন, যার মধ্যে তিনটি বিষয় থাকবে না সে ঈমানের স্বাদ পাবে না। 

(১) সহিষ্ণুতা। 

(২) তাক্বওয়া। 

(৩) উত্তম চরিত্র।

সহিষ্ণুতা হচ্ছে একজন অপরজনের প্রতি অনুগ্রহশীল, হিতাকাক্সক্ষী, দরদী, উপকারী হওয়া ঈমানদারের বৈশিষ্ট। 

তাক্বওয়া হচ্ছে যাবতীয় অন্যায়, অনাচার, পাপাচার থেকে বিরত থাকা এবং যথাযথভাবে আল্লাহর হুকুম পালন করা, প্রিয় নবী ﷺ এর সুন্নাত তরিক্বায় চলা।

উত্তম চরিত্র হচ্ছে কাউকে কোন কষ্ট না দেয়া, কারো কোন ক্ষতি না করা, বরং কেউ কোন কষ্ট দিলে তাকে ক্ষমা করে দেয়া।


Continue Reading...

ক্রোধের কারনে শাস্তি দেয়া বৈধ নয় । ইসলাম শিক্ষার হাতেখড়ি । পর্ব - ২৪

হযরত ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ রহ. এক মাদক সেবনকারীকে ধরে  এনে শাস্তি দেয়ার ইচ্ছা করলেন। এমতাবস্থায় সে খলীফাকে গালী দিল। খলীফা তাকে ছেড়ে দিলেন তখন একজন খলীফাকে জিজ্ঞাসা করলো, হুজুর আপনাকে গালী দেওয়ার পরও আপনি তাকে ছেড়ে দিলেন কেন ? হযরত ওমর ইবনে আব্দুল আজীজ রহ. বললেন গালি দিয়ে সে আমাকে রাগানি¦ত করে ফেলেছে। এমতাবস্থায় তাকে শাস্তি দিলে তা আমার রাগের কারনে হতো আর আমি কোন মুসলমানকে নিজের রাগের কারনে শাস্তি দিতে চাই না। কেননা, আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনের সুরা আলে ইমরানের ১৩৪ নাম্বার আয়াতে বলেন-

 والكاظمين الغيظ والعافين عن الناس 

আর যারা রাগকে সংবরন করে। আর মানুষকে ক্ষমা করে দেয়। আর আল্লাহ সদাচারীদেরকে ভালবাসেন।


Continue Reading...

হযরত মির্যা মাযহার রহ. এর ঘটনা । ইসলাম শিক্ষার হাতেখড়ি । পর্ব - ২৩

এক আল্লাহ ওয়ালা বুযুর্গ ছিলেন, যার নাম হযরত মির্যা মাযহার জানে-জানা রহ.। তিনি এত নাযুক স্বভাবী ছিলেন যে, একদিন তার দরবারে এক বাদশা আগমন করল এবং পানি পান করে পানির পেয়ালাটি তাকের উপর বাকা করে রাখল। এই দৃশ্য দেখে তিনি ধৈর্য ধারন করলেন। যদিও এতে তার মাথা ব্যাথা শুরু হয়ে গিয়েছিল। কিছুক্ষন পর বাদশা বললেন, হুজুর! আপনি যদি অনুমতি দেন তবে আপনার খেদমতের জন্য আমি একজন চাকর দিতে চাই এবং সেই চাকরের বেতন আমি দিব। বাদশাহর এই কথা শুনে তিনি বললেন, ভাই এতক্ষন তো আমি ধৈর্য্য ধরে ছিলাম কিন্তু এখন আর সহ্য হলো না। আপনি একজন বাদশাহ হয়েও জানেন না তাকের উপর পেয়ালা কিভাবে রাখতে হয়। পেয়ালাটি বাকাভাবে রেখে আমার মাথা ব্যাথা শুরু করে দিলেন। এই যখন আপনার অবস্থা, তবে আপনার চাকরের অবস্থা কি হবে। আমাকে মাফ করেন। আমার জন্য কোন চাকর দিতে হবে না। তিনি একদিন নামাজ পড়ার জন্য দিল্লির জামে মসজিদে যাওয়ার পথে দেখলেন একটি খাট বাকাভাবে রাখা আছে। অমনি তার মাথা ব্যাথা শুরু হয়ে গেল। এমনকি গায়ে দেওয়ার লেপের কোন সেলাই যদি বাকা হতো তা দেখলেও তার মাথা ব্যাথা শুরু হয়ে যেত। আল্লাহ পাক তার অন্তরে এলহাম করলেন, হে মাজহার! জানে-জানা, তোমার মেজাজ বড় নাজুক আমার এক বান্দী আছে খুবই কটু ভাষীনি। যদি তুমি তাকে বিবাহ কর এবং তার দুর্ব্যবহার সহ্য করে তাকে বিবাহ করে তাকে নিয়ে সংসার কর এবং তার দুর্ব্যবহার সহ্য করে তাকে নিয়ে সংসার কর তবে সমস্ত পৃথিবীতে আমি তোমার ডঙ্কা পিটিয়ে দিব। তোমাকে আমি এত সম্মান দান করব যে. সমগ্র বিশে^ তোমার সুনাম ছড়িয়ে পড়বে। তোমার দ্বারা আমি দ্বীনের বিরাট কাজ নিব। আল্লাহ পাকের এই ওলি কাল-বিলম্ব না করে বাড়ী থেকে রওয়ানা হয়ে গেলেন এবং ঐ মহিলাকে বিবাহ করলেন তারপর তো দিন-রাত তার কটু কথা কটু বাক্য শুনতে থাকলেন। তাই এর বিনিময়ে দুনিয়াতেই তিনি অনেক বড় পুরস্কার লাভ করলেন। তার খলীফা হযরত শাহ গোলাম আলী রহ.। হযরত শাহ গোলাম আলী রহ. এর খলীফা সিরিয়ার খালেদ কুর্দী রহ.। তারই সিলসিলায় বায়াত হয়েছেন তাফসীরে রুহুল মায়ানীর লেখক আল্লামা সায়্যিদ মাহমুদ আলূসী বাগদাদী রহ.। তারই সিলসিলায় দাখেল হয়েছেন আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী রহ.। এই ভাবে। আল্লাহ পাক বিশ^ময় তার ডঙ্কা পিটিয়ে দিয়েছেন।


Continue Reading...

অপরাধ ক্ষমা করার জন্য স্বয়ং আল্লাহর সুপারিশ । ইসলাম শিক্ষার হাতেখড়ি । পর্ব - ২২


হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাযি. নিজ ভাতিজা মেসতাহ্ রাযি. এর উপর অসন্তুষ্ট হয়ে গিয়েছিল তারই এক আচরনের ফলে। তিনি কসম করে ফেলে ছিলেন যে, আর কখনও তাকে আমি কোনরূপ সাহায্যে দিব না এবং জীবনে কোন দিন তার সাথে কথা বলব না। যেহেতু হযরত মেসতাহ রাযি. বদরী-সাহাবী ছিলেন আল্লাহ পাক তার পক্ষে সুপারিশ করলেন। কারন আল্লাহ পাক যাকে একবার মকবুল করে নেন তাকে আর কখনোও মরদুদ করেন না। মকবুল অর্থ গৃহিত আর মরদুদ অর্থ বিতাড়িত। আমরাতো একজনকে বন্ধু বানাই আবার তাকে শত্রæ বানাই। কারন আমরা বন্ধু বানানোর সময় ভবিষ্যত সম্পর্কে জানি না যে আসলে সে এই বন্ধুত্ব রক্ষা করে চলবে কিনা। পক্ষান্তরে আল্লাহ পাক তাকেই বন্ধু বানান যার সম্পর্কে আল্লাহ জানেন যে, ভবিষ্যতেও সে বন্ধু হয়ে থাকবে এবং বন্ধুর মত চরিত্র নিয়ে চলবে। কারন আল্লাহ অতিত, বর্তমান ও ভবিষ্যত সম্পর্কে সম্পূর্ন অবগত। তাই আল্লাহ পাক সুপারিশ নাজিল করলেন-

 الا تحبون ان يغفر الله لكم

হে আবু বকর সিদ্দিক ! তুমি কি ইহা পছন্দ করনা যে, তুমি আমার এই বান্দাকে মাফ করে দিব, যে একজন বদরী সাহাবী ? বদরের প্রান্তরে সে আমার জন্য যুদ্ধ করেছে। যে কারনে আমি তাকে আমার বন্ধু বানিয়েছি। তার দ্বারা একটা ভুল কাজ হয়ে গেছে কিন্তু আমি তাকে মাফ করে দিয়েছি তুমি কি ইহা চাও যে, তুমি তাকে মাফ করে দিবে এবং এই মাফের বিনিময়ে কেয়ামতের দিন আল্লাহ পাক তোমাকে মাফ করে দিবেন ? হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাযি. ইহা শুনে বলে উঠলেন-

 والله انى احب ان يغفر الله لى 

আল্লাহর কসম অবশ্যই আমি চাই যে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ পাক যেন আমাকে মাফ করে দেন। তাই আমি মেসতাহকে মাফ করে দিলাম এবং তাকে আমি পূর্বের চেয়েও বেশী সাহায্যে দান করব।


Continue Reading...

ক্ষমার বদলে আসমানী ক্ষমা । ইসলাম শিক্ষার হাতেখড়ি । পর্ব - ২১

ঐ মজদুর (শ্রমিক) স্বীয় স্ত্রীর প্রতি সহানুভ‚তিশীল হয়ে তাকে ক্ষমা করে দিল এবং বলল হে আল্লাহ সে তো আপনার বান্দী। মাত্র কিছু দিনের জন্য তার ও আমার এই জিন্দেগী। কয়েকদিন পর আমিও থাকব না সেও থাকবে না। সকলেই অন্ধকার কবরে শায়িত থাকব। আয় আল্লাহ আপনার সন্তুষ্টি লাভের জন্য আমি তাকে আপনার বান্দী মনে করে তার এই ত্রুটি ক্ষমা করে দিলাম। হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ. ওয়াজের মধ্যে বলেন যে, ঐ লোকটির ইন্তেকালের পর জনৈক আল্লাহ ওয়ালা ব্যাক্তি তাকে স্বপ্নে দেখতে পেলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন, হে ভাই! আল্লাহ পাক তোমার সাথে কিরূপ ব্যবহার করলেন ? সে বলল, আমার তো বড় ভারী গুনাহ ছিল। কিন্তু আল্লাহ পাক বললেন, দুনিয়ায় থাকা কালিন একদিন তুমি আমার বান্দীর অপরাধ ক্ষমা করে ছিলে। উহার বিনিময়ে আজ আখেরাতে আমি তোমার সকল অপরাধ ক্ষমা করে দিলাম।


Continue Reading...

Blogroll

About