Sunday, April 3, 2022

আখেরাত বা পরকাল। ইসলাম শিক্ষার হাতেখড়ি । পর্ব - ৭

Share it Please

বুদ্ধি হওয়ার পর থেকেই আমরা দেখে আসছি যে, আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করেছেন তিনি আমাদেরকে বাচিয়ে রাখার জন্য যা দরকার তাও সবকিছুই সৃষ্টি করেছেন। এর থেকে আমরা এই সিদ্ধান্তে আসতে পারি যে, আল্লাহ আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমাদের যা চাহিদা তা তিনি পূরন করেন। মানুষকে আল্লাহ বুদ্ধি দিয়েছেন, সেই বুদ্ধিবলে মানুষ জামা-কাপড়, কাথা-বালিশ তৈরী করে তা দিয়ে শীত নিবারন করে। কিন্তু জীব-জন্তুদেরকে বুদ্ধি দেন নাই এই জন্য জীব-জানোয়ার জন্মের সময় তার শরীরে পোশাক নিয়েই জন্মে। তাদের শরীরে থাকে ঘন পশম, যা তাদের শীত নিবারনের কাজে ব্যবহৃত হয়। আর আল্লাহ পশমকে তাপ পরিবাহী করে সৃষ্টি করেছেন। ফলে তাদের শরীরের গরমে তাদের পশম গরম হয়। আর পশম ভেদ করে ঐ শরীরের গরম বের হতে পারে না। তাই পশম শরীরের গরমে যতটুকু গরম হয় ততটুকু গরমেই তাদের কাথার কাজ হয়ে যায়। এটা তারই ব্যবস্থা যিনি তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। এইভাবে আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহের কথা মানুষ যদি লিখতে থাকে অর্থাৎ পৃথিবী সৃষ্টি, আসমান সৃষ্টি, জমিন সৃষ্টি, ঋতুর পরিবর্তন, বিভিন্ন ঋতুতে আবহাওয়া মোতাবেক প্রয়োজনীয় খাদ্যে দেয়া, বায়ুর মধ্যে প্রয়োজনীয় গ্যাসীয় পদার্থ প্রয়োজন মোতাবেক থাকা ইত্যাদির গুনাগুন যদি মানুষ লিখতে থাকে তাহলে আল্লাহ সুরা কাহাফের একশত নয় নাম্বার আয়াতে বলেছেন যে, হে নবী! আপনি বলেন তোমার রবের দয়ার কথাগুলি লেখার জন্যে পৃথিবীর সমস্ত সমুদ্রের সমস্ত পানিকে যদি কালি বানিয়ে দেয়া হয় তা দিয়ে যদি আল্লাহর দয়ার কথা সৃষ্টি কৌশল সম্পর্কে লেখা হয়, তবে কালি শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু আল্লাহর সৃষ্টির কথা, দয়ার কথা শেষ করা যাবে না।

আল্লাহ যাই সৃষ্টি করেছেন তার সব কিছুকেই তিনি টিকিয়ে রাখার একটা ব্যবস্থা সৃষ্টি করেছেন।

আল্লাহর কোন সৃষ্টিই অবৈজ্ঞানিক নয়। এবার মানুষের দূর্বলতা সম্পর্কে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়। অন্য কোন জীবেরই বাচ্চাদেরকে কোলে করে মানুষ করা লাগে না। শুধুমাত্র মানুষের বাচ্চাদেরকেই কোলে করে মানুষ করা লাগে আর একটা গরুর বাচ্চা বা মুরগীর বাচ্চা মায়ের পেট থেকে বের হওয়ার বা ডিম থেকে ফুটে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চলতে ফিরতে শিখে এবং নিজের খাবার নিজেই খেতে শিখে। কিন্তু মানুষ জন্মের পরে সম্পূর্ন অসহায় এবং পর নির্ভরশীল থাকে। তার কারন আল্লাহ মানুষকে করেছেন সামাজিক জীব, সে সারা জীবনই কোন না কোন দিক থেকে পর নির্ভরশীল থাকে। তাই যেন অন্যকে ভালবাসতে, শ্রদ্ধা করতেও একে অপরের প্রতি সহানুভ‚তিশীল হয়ে গড়ে উঠতে পারে সে জন্য তাকে কোলে করে মানুষ করা লাগে। ফলে তার জ্ঞান হওয়ার পর থেকে সে বুঝতে শিখে যে, কতজনের কত স্নেহ ভালবাসার কারনেই সে বড় হতে পেরেছে। কাজেই তাকেও হতে হবে তেমনই যেমন তাকে মানুষ করার জন্য অন্যকে হতে হয়েছিল সহানুভ‚তিশীল। এভাবে আল্লাহ মানুষকে সামাজিক জীব হিসাবে গড়ে তোলেন। দেখুন আমরা কতজনের উপর নির্ভরশীল।- 

(১) পিতা-মাতার উপর নির্ভরশীল। 

(২) ভাই-বোন, আত্বীয়-স্বজনদের উপর নির্ভরশীল। 

(৩) কাপড়-চোপড়, পোষাকাদি তৈরীর জন্য দর্জির উপর নির্ভরশীল। 

(৪) মাথার চুল কাটানোর জন্য নাপিতের উপর নির্ভরশীল। 

(৫) জুতা ঠিক করার জন্য মুচির উপর নির্ভরশীল। 

(৬) রোগ হলে ঔষধের উপর নির্ভরশীল। 

(৭) রোগের চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের উপর নির্ভরশীল। 

(৮) লেখা-পড়া শিখার জন্য শিক্ষকদের উপর নির্ভরশীল। 

(৯) বসবাসের ঘর তৈরী করার জন্য মিস্ত্রিদের উপর নির্ভরশীল। 

(১০) পথ চলার জন্য যানবাহনের ড্রাইভারদের উপর নির্ভরশীল।

আল্লাহ মানুষের সব দাবিই পূরণ করেন। তবে সময় মত তার পূর্বে না। অতএব আমাদের মনের প্রধান দুইটা দাবী এখন পূরন হয় নাই, তা হলো 

(১) ভাল-মন্দ কজের বিনিময় বা প্রতিদান। 

(২) ভাল-মন্দ মাপার যন্ত্র। যা দ্বারা বুঝতে পারা যায় যে কে কতটুকু পরিমান ভাল আর কে কতটুকু পরিমান মন্দ। মানুষের এই দাবী যথা সময়ই পূরন করা হবে। কেননা, আল্লাহর নীতিই হচ্ছে যখন যাদের যা দরকার তখন তা দেয়া। যেমন দাতের বয়স হলে দত দেন। ঠিক তদ্রুপ যে দুটি বিষয় এখন পাই নাই অথচ তা পাওয়ার জন্য আমাদের মৌলিক দাবী তা কি আল্লাহ দিবেন না ? এতে মনের সাক্ষ্যে হচ্ছে এই যে, এই দুইটি দাবী পূরনের সময় এখনও যেন আসেনি। ভাল-মন্দ, নেকি-বদি মাপার যন্ত্র তখনই দরকার হবে যখন নেকি-বদির আমলনামা লেখা শেষ হবে। আল্লাহ পাক সুরা ইয়াসিনের বারো নাম্বার আয়াতে বলেছেন- নিশ্চয়ই আমিই একদিন মৃত্যুদেরকে জীবিত করব। আর আমি তার পিছনের জিন্দেগীর আমলনামা লিপিবদ্ধ করে লওহে মাহফুজে সংরক্ষন করে রাখছি যা প্রত্যেক ব্যাক্তি কেয়ামতের দিন নিজ নিজ আমলনামা দেখতে পাবে। দুনিয়া-আখেরাত / ইহকাল-পরকালের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্যে রয়েছে।- 

(১) দুনিয়াতে জন্ম-মৃত্যু আছে কিন্তু আখেরাতে জন্ম-মৃত্যু নাই। সেখানে প্রত্যেকে যুবক-যুবতি হয়ে কবর থেকে উঠবে। 

(২) দুনিয়াতে কাজের জায়গা আর আখেরাতে কাজের জন্য কর্মফল ভোগ করার জায়গা।

(৩) দুনিয়াতে জীবনের শেষ আছে আর আখেরাতে জীবনের কোন শেষ নাই।

(৪) দুনিয়াতে কিছু মনে চাইলে তা পাওয়ার জন্য চেষ্টা করতে / মেহনত করতে হয়। এরপরও সবচেষ্টা সফল হয় না। কিন্তু আখেরাতে যারা বেহেশতবাসী হবে। চাওয়া মাত্রই সব কিছু পাওয়া যাবে। এর জন্য কোন চেষ্টা-মেহনত করা লাগবে না। 

(৫) দুনিয়াতে স্বামী-স্ত্রী বসবাস করে পেশাব-পায়খানা ও পাক-নাপাকের ব্যাপার আছে কিন্তু আখেরাতে তা নাই।

(৬) দুনিয়াতে রোগ-ব্যাধি আছে কিন্তু বেহেশতে তা নাই।

(৭) দুনিয়াতে চির যৌবন নাই কিন্তু আখেরাতে চির যৌবন আছে। মোটকথা দুনিয়া কাজের জায়গা আর আখেরাত ভোগের জায়গা।

অতএব, দুনিয়াতে যারা খাটি ঈমানের সাথে নেক আমল করবে অর্থাৎ আল্লাহর হুকুম ও নবীর সুন্নাত পালন করবে তারা চিরকাল বেহেশতে থাকবে। আর যারা তা করবে না তারা চিরকাল দোজখের আগুনে জলবে।


No comments:

Post a Comment

Blogroll

About