হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাযি. নিজ ভাতিজা মেসতাহ্ রাযি. এর উপর অসন্তুষ্ট হয়ে গিয়েছিল তারই এক আচরনের ফলে। তিনি কসম করে ফেলে ছিলেন যে, আর কখনও তাকে আমি কোনরূপ সাহায্যে দিব না এবং জীবনে কোন দিন তার সাথে কথা বলব না। যেহেতু হযরত মেসতাহ রাযি. বদরী-সাহাবী ছিলেন আল্লাহ পাক তার পক্ষে সুপারিশ করলেন। কারন আল্লাহ পাক যাকে একবার মকবুল করে নেন তাকে আর কখনোও মরদুদ করেন না। মকবুল অর্থ গৃহিত আর মরদুদ অর্থ বিতাড়িত। আমরাতো একজনকে বন্ধু বানাই আবার তাকে শত্রæ বানাই। কারন আমরা বন্ধু বানানোর সময় ভবিষ্যত সম্পর্কে জানি না যে আসলে সে এই বন্ধুত্ব রক্ষা করে চলবে কিনা। পক্ষান্তরে আল্লাহ পাক তাকেই বন্ধু বানান যার সম্পর্কে আল্লাহ জানেন যে, ভবিষ্যতেও সে বন্ধু হয়ে থাকবে এবং বন্ধুর মত চরিত্র নিয়ে চলবে। কারন আল্লাহ অতিত, বর্তমান ও ভবিষ্যত সম্পর্কে সম্পূর্ন অবগত। তাই আল্লাহ পাক সুপারিশ নাজিল করলেন-
الا تحبون ان يغفر الله لكم
হে আবু বকর সিদ্দিক ! তুমি কি ইহা পছন্দ করনা যে, তুমি আমার এই বান্দাকে মাফ করে দিব, যে একজন বদরী সাহাবী ? বদরের প্রান্তরে সে আমার জন্য যুদ্ধ করেছে। যে কারনে আমি তাকে আমার বন্ধু বানিয়েছি। তার দ্বারা একটা ভুল কাজ হয়ে গেছে কিন্তু আমি তাকে মাফ করে দিয়েছি তুমি কি ইহা চাও যে, তুমি তাকে মাফ করে দিবে এবং এই মাফের বিনিময়ে কেয়ামতের দিন আল্লাহ পাক তোমাকে মাফ করে দিবেন ? হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাযি. ইহা শুনে বলে উঠলেন-
والله انى احب ان يغفر الله لى
আল্লাহর কসম অবশ্যই আমি চাই যে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ পাক যেন আমাকে মাফ করে দেন। তাই আমি মেসতাহকে মাফ করে দিলাম এবং তাকে আমি পূর্বের চেয়েও বেশী সাহায্যে দান করব।
No comments:
Post a Comment