Wednesday, April 13, 2022

নামাজ অশ্লীল গর্হিত কাজ থেকে বিরত রাখে । ইসলাম শিক্ষার হাতেখড়ি । পর্ব - ১৬

Share it Please

কুরআনে আল্লাহ বলেন-

 ان الصلاة تنهى عن الفحشاء والمنكر 

নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীল ও গর্হিত কাজ থেকে বিরত রাখে। মুসলমান-অমুসলমান প্রত্যেক ব্যাক্তি যে সব কাজকে সুস্পষ্ট খারাপ কাজ মনে করে তাকে الفحشاء বলে। যেমন- চুরি, ডাকাতী, যিনা, হত্যা ইত্যাদি। আর শুধুমাত্র বিজ্ঞ আলেমগন যে সব কাজকে হারাম ও অবৈধ বলে সিদ্ধান্ত দেন তাকে المنكر বলে। নামাজ ঐ উভয় প্রকার কার্যকলাপ থেকে বিরত রাখে। উক্ত আয়াত দ্বারা বুঝা যায় যে ব্যাক্তি সঠিকভাবে নামাজ কায়েম করবে সে সর্বপ্রকার পাপাচার থেকে মুক্ত থাকবে। তবে শর্ত হলো শুধু নামাজ পড়লেই হবে না। বরং কুরআনে বর্নিত নিয়ম অনুযায়ী একামতে সালাত হতে হবে। একমতে শব্দের অর্থ হলো, কোন কিছুকে সোজা খাড়া করা যাতে কোন দিকে ঝুকে না যায়। অতএব, একামতে সালাতের অর্থ হলো যে ভাবে রাসুল ﷺ প্রকাশ্যে অপ্রকাশ্যে রীতি-নীতি পালনসহ নামাজ পড়েছেন এবং স্বীয় উম্মতকে ঐ ভাবে পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন, ঠিক সেভাবে নামাজ আদায় করা প্রকাশ্যে রীতি-নীতি পালন। যেমন-শরীর পাক, কাপড় পাক, নামাজের জায়গা পাক, সতর ঢাকা, কিবলামুখী হওয়া, ওয়াক্তমত নামাজ পড়া, নামাজের নিয়্যাত করা, তাকবীরে তাহরীমা বলা, দাড়াইয়া নামাজ পড়া, কেরাত পড়া, রুকু করা, সিজদা করা, শেষ বৈঠক করা। আর অপ্রকাশ্যে রীতি-নীতি বলে বুঝানো হয়েছে আল্লাহ পাকের সামনে এমনভাবে বিনয়াবনত ও একাগ্রতা সহকারে দাড়ানো যেন তার কাছে আবেদন করা হচ্ছে। যে ব্যাক্তি এভাবে নামাজ কায়েম করবে সে আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে নেক আমল করার এবং যাবতীয় অশ্লীল ও গর্তিত কাজ থেকে বেচে থাকার তাওফিক প্রাপ্ত হবে। অতএব যে ব্যাক্তি নামাজ পড়া সত্তে¡ও গুনাহর কাজ থেকে ফিরে থাকে না, তবে বুঝতে হবে অবশ্যই তার নামাজে ত্রæটি আছে। রাসুল ﷺ কে জিজ্ঞাসা করা হয়ে ছিল-

 ان الصلاة تنهى عن الفحشاء والمنكر   

এই আয়াতের অর্থ কি? উত্তরে তিনি বলেছিলেন-

 من لم تنه صلوته عن الفحشاء والمنكر فلا صلوة له 

অর্থাৎ যে ব্যাক্তি তার নামাজ যাবতীয় অশ্লীল ও গর্হিত কাজ থেকে বিরত রাখে না, তার নামাজ নামাজই হয় না।

এক হাদীসে রাসুল ﷺ বলেছেন- আল্লাহ পাক বান্দার উপর পাচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন। অতএব, যে ব্যাক্তি নামাজের জন্য ভালভাবে ওযু করে নির্ধারিত সময়ে একাগ্রচিত্তে¡ নামাজ পড়বে তার জন্য আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে ক্ষমা করার ওয়াদা আছে। আর যে ব্যাক্তি এরূপ ভাবে নামাজ পড়বে না, তার জন্য আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে কোন ওয়াদা নাই। ইচ্ছা করলে ক্ষমা করতে পারেন আবার ইচ্ছা করলে শাস্তিও দিতে পারেন।


No comments:

Post a Comment

Blogroll

About