Monday, April 4, 2022

একজন মুসলমানের জন্য আক্বিদার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা । ইসলাম শিক্ষার হাতেখড়ি । পর্ব - ১১

Share it Please

আক্বিদা হচ্ছে প্রত্যেক মুমিনের অন্তরে সত্যিকার ও সূদৃঢ় ইমান। এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়-

(১) আক্বিদা মানুষকে পরিচয় করিয়ে দেয় যে, সে সৃষ্ট তার একজন মহান স্রষ্টা আছেন যিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন এবং নেয়ামতের মাধ্যেমে সাহায্যে করেছেন তিনি ব্যাতিত সত্যিকার কোন মাবুদ নাই।

(২) মানুষকে জানিয়ে দেয় কেন তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে। সে যেন এককভাবে শরীকহীন এক আল্লাহর ইবাদতের জন্য সৃষ্ট। 

(৩) মানুষকে জানিয়ে দেয় সে কোন দিকে চলছে ? জীবন মৃত্যুর পরে তার সফর কি হবে ?

(৪) আক্বিদা মানুষের জন্য প্রশান্তি ও নিরবতা আনে তার অন্তরে শুভ কামনা আশা আকাংখা ও ধৈর্য্যরে প্রবাহ সৃষ্টি করে।

(৫) মানুষকে ভাল কাজ করতে, দায়িত্ব পালন করতে বাধ্যে করে এবং জুলুম করা থেকে সতর্ক করে।

(৬) ইসলামি আক্বিদা মানুষকে পারস্পারিক সহযোগিতা ভ্রাতৃত্ব বন্ধন সুরক্ষা করে যেমন আল্লাহ পাক বলেন নিশ্চয়ই মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই।


ইসলামী আক্বীদার মূল ভিত্তি ছয়টিঃ

১। ঈমান বিল্লাহ।

২। ঈমান বিল মালাইকাহ।

৩। ঈমান বিল কুতুব।

৪। ঈমান বির রাসূল।

৫। ঈমান বিল ইয়াওমিল আখির।

৬। ঈমান বিল ক্বদর।


(১) ঈমান বিল্লাহ- ঈমান বিল্লাহ হচ্ছে আল্লাহ তা’য়ালার অস্তিত্বের ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাস করা, এবং এ বিশ্বাস ও করা যে, তিনি সকল কিছুর স্রষ্টা, গোটা সৃষ্টিজগতের নিয়ন্তা এ ব্যাপারে তার কোন শরীক নাই। তিনি একক অমুখাপেক্ষী। তার সমকক্ষ কোন কিছু নাই। সকল প্রকার দোষ ত্রুটি থেকে তিনি পবিত্র।

পরিপূর্ণ ঈমানের হাকিক্বত তিনটিঃ

১। মুখে স্বিকার করা। 

২। অন্তরে বিশ্বাস করা।

৩। কাজে পরিনত করা।

ঈমান বিল্লাহ এর ফলাফল হচ্ছেঃ

১। নেক আমল করা।

২। বদ আমল ছেড়ে দেওয়া।

৩। আত্মার প্রশান্তি।

তাওহীদ ৩ প্রকারঃ

১। তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ।

২। তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ।

৩। তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাত।


শিরক

শিরক হচ্ছে তাওহীদের বিপরীত। শিরক দুই প্রকার - 

(১) শিরকে আকবর।

(২) শিরকে আসগর।

শিরকে আকবর মানুষকে ইসলাম হতে বের করে দেয় এবং কাফিরদের সাথে সম্পর্ক করে দেয়। শিরকে আকবরে লিপ্ত থাকা অবস্থায় মারা গেলে আল্লাহ তার শিরকী গুনাহ মাফ করবেন না। আল্লাহ তা’য়ালা বলেন-

নিশ্চয়ই আল্লাহ তার সাথে শিরক করাকে ক্ষমা করবেন না। এছাড়া অন্য সব গুনাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দিবেন। (সুরা নিসা-৪৮)

শিরকে আসগর সমস্ত আমল নষ্ট করে দেয়।


(২) ঈমান বিল মালাইকা- ফেরেশতা হচ্ছে নূরানী জগতের নাম। তারা আল্লাহর সম্মানিত ও পবিত্র সৃষ্টি। আল্লাহর কোন একটি নির্দেশও তারা অমান্যে করে না। যা নির্দেশ হয় তাই তারা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে থাকেন। অনেক হেকমত পূর্ন রহস্যের  লক্ষ্যে আল্লাহ পাক তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন।

  • ফেরেশতারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত। তাদের অসংখ্য কাজ আছে।-
  • তাদের মধ্যে কেউ নবীদের নিকট ওহী নাজিলের দায়িত্ব প্রাপ্ত। তিনি হচ্ছেন হযরত জিব্রাঈল আ.। ফেরেশতাদের মধ্যে তিনি সর্বউত্তম ও সর্ব মহান।
  • তাদের মধ্যে কেউ মৃত্যুর সময় মানুষের জান কবজের কাজে নিয়োজিত। আর তারা হচ্ছেন মালাকুল মউত হযরত আজ্রাঈল আ. ও তার সহকারীগন।
  • তাদের মধ্যে কেউ সিঙ্গায় ফুক দেওয়ার দায়িত্ব প্রাপ্ত। তিনি হচ্ছেন ঈস্রাফিল আ.। তিনি সিঙ্গায় দুইবার ফুক দিবেন। প্রথম ফুক দিবেন সমস্ত প্রানির মৃত্যু ঘটানোর জন্য। দ্বিতীয় ফুক দিবেন মৃত্যুর পর হিসাবের জন্য পূনরুত্থানের জন্য। 
  • তাদের মধ্যে রয়েছে জান্নাত ও জাহান্নামের অধিবাসীদের উপর দায়িত্বপ্রাপ্ত। তারা হচ্ছেন রেদওয়ান, মালেক ও তাদের সহকারীগন।
  • তাদের মধ্যে কেউ মানুষের আমলনামা লিখার কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত। আর তারা হচ্ছেন কেরামান-কাতেবীন ফেরেশতাদ্বয়।
  • তাদের মধ্যে কেউ মানুষদেরকে সর্বদা সব জায়গায় বিপদ হতে সংরক্ষন করে।
  • তাদের মধ্যে দুইজন ফেরেশতা আছেন। যারা কবরে প্রশ্ন করার দায়িত্বপ্রাপ্ত। তারা কবরে মৃত ব্যাক্তিকে জিজ্ঞাসা করবেন, তোমার রব কে ? তোমার দ্বীন কি ? তোমার নবী কে ?

ঈমান বিল মালাইকা বলতে বুঝায় ফেরেশতাদের অস্তিত্ব, গুনাগুন ও কাজের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা।

ঈমান বিল মালাইকার হাকিকত হচ্ছেঃ

১. আল্লাহর মহত্ব সম্পর্কে জ্ঞান লাভ। যিনি সৃষ্টিকুলের মধ্যে এ ধরনের বিশাল সৃষ্টি জগত সৃষ্টি করতে সক্ষম।

২. মানুষের হেফাজত, পরিচর্যা, তাদের জন্যে দোয়া এবং আদম সন্তানের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যেমে উপকৃত হওয়া।

৩. সৎকাজের প্রতি আগ্রহী হওয়া এবং গুনাহ থেকে দুরে থাকা।

৪. আদম সন্তাদের প্রতি গুরুত্ব প্রদানের জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা এইজন্য যে, তিনি মানুষদের সাথে হেফাজত করার জন্য ফেরেশতা নিযুক্ত করেছেন।


(৩) ঈমান বিল কুতুব- আসমানী কিতাব সমূহের প্রতি ঈমান একজন মুসলমান সংক্ষেপে এ বিশ্বাস করবে যে, আল্লাহ তা’য়ালা তার নবী ও রাসুলদের উপর অনেকগুলো আসমানী কিতাব নাজিল করেছেন যাতে তারা এসব মানুষের নিকট আল্লাহর পয়গাম পৌছে দিতে পারেন। আর আল্লাহ তা’য়ালা যে সবের নাম উল্লেখ করেছেন আমরা বিস্তারিতভাবে তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করি। ঐ কিতাবসমূহে আছে আল্লাহর তাওহীদ ও ইবাদতের প্রতি আহবান, আল্লাহর উপর ঈমান, আখেরাতের উপর ঈমান আনার দিকে আহবান। উত্তম চরিত্র ও খারাপ কাজ হতে সতর্কীকরন।পবিত্র কুরআনে যে সব আসমানী কিতাবের নাম আছে তা হচ্ছে-

১. কুরআনুল কারিম- হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর অবতির্ণ করেছেন।

২. ঈঞ্জিল- হযরত ঈসা আ. এর উপর অবতির্ণ করেছেন।

৩. তাওরাত- হযরত মুসা আ. এর উপর অবতির্ণ করেছেন।

৪. যাবুর- হযরত দাউদ আ. এর উপর অবতির্ণ করেছেন।

৫. সহিফা সমূহ হযরত ইব্র্রাহিম আ. ও মুসা আ. এর উপর নাজিল করেছেন। 

ঈমান বিল কুতুব এর মাধ্যেমে যে সব আল্লাহর কালাম তিনি তার নবীদের উপর নাজিল করেছেন তা বিশ্বাস করা। আর এ কথা বিশ্বাস করা যে পবিত্র কুরআন এসব আসমানী কিতাবের মধ্যে সর্ব উত্তম, সর্বশেষ রহিতকারী।

গোটা মানবজাতির উপর ওয়াজিব হচ্ছে এই কিতাবের অনুসরন করা সাথে সাথে নবীজির সমস্ত বিশুদ্ধ সুন্নাহর অনুসরন করা। আমরা এ বিশ্বাস করব যে পবিত্র কুরআন ছাড়া বাকী সব কিতাবেই বিকৃতি ও পরিবর্তন হয়েছে। আর কুরআন কারীম হচ্ছে আল্লাহ তা’য়ালার এমন কিতাব যা কখনও কোন রকম বিকৃত হয় নাই, পরিবর্তন হয় নাই। যেহেতু এই কুরআন সম্পর্কে আল্লাহ পাক নিজেই বলেছেন -“ইন্না নাহনু নাজ্জালনাজ জিকরা ওয়া ইন্না লাহু লাহাফিজুন” নিশ্চয়ই আমিই উহা সংরক্ষন করব। (সুরা আল-হিজর-৯)

ঈমান বিল কুতুবের হাকিকত হচ্ছে :-

  • আল্লাহ তার বান্দাদের জন্য রহমত স্বরূপ আসমানী কিতাব সমূহ নাজিল করেছেন যাতে বাতিল বা মিথ্যা থেকে হক বা সত্যাকে সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন।
  • আল্লাহর পরিপূর্ন জ্ঞানের পরিচয় লাভ করার জন্য তিনি প্রত্যেক জাতির জন্য তাদের উপযুক্ত শরীয়ত প্রবর্তন করেছেন।
  • সর্বশেষ আসমানী কিতাবের (কুরআন) অনুসরনের মাধ্যেমে হেদায়াত লাভ করার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
  • কুরআনে কারিম তেলাওয়াতের মাধ্যেমে আল্লাহর নৈকট্যলাভ এবং তাতে যে বিধান ও দিক-নির্দেশনা আছে সে অনুযায়ী আমল করা। যে ব্যাক্তি কিছু কিতাবের উপর ঈমান আনে আর কিছু কিতাবকে অস্বীকার করে তার ঈমান গ্রহনযোগ্য না বরং এ ধরনের ব্যাক্তিকে কাফের গন্য করা হবে।

কুরআন যে বিকৃত হয় নাই তার প্রমান : 

  • আল্লাহ নিজে কুরআন হেফাজতের দায়িত্ব নিয়েছেন তা সুরা আল-হিজর এর নয় নাম্বার আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে।
  • নাজিল হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত সর্ব যুগে মুসলমানরা তা হেফজ করে অন্তরস্থ করে রেখেছে এবং কেয়ামত পর্যন্ত তা চলবে।
  • মুসলমানরা তা তেলাওয়াত ও হেফজের মাধ্যেমে আল্লাহর নৈকট্যলাভের চেষ্টা করে যাচ্ছে।
  • কুরআনের এক অংশ অপর অংশকে সত্যায়িত করেছে এতে কোন দ্বন্ধ ও বৈপরিত্ব নাই।
  • কুরআন এমন অনেক অদৃশ্য বিষয় বর্ননা করেছে যা পরবর্তিতে সত্য প্রমানিত। বিজ্ঞান এর কোন তথ্যের বিরোধিতা করে নাই।

কুরআনে কারীমের ব্যাপারে আমাদের করনীয় :

  • কুরআনকে ভালবাসা এবং তার মহত্ব উপলব্ধি করা। কেননা, ইহা মহান আল্লাহর কালাম বা বানী।
  • কুরআন তেলাওয়াত, হেফজ ও তার আয়াতসমূহ নিয়ে চিন্তা গবেষনা করার মাধ্যেমে ইবাদত করা।
  • কুরআনের বিধানের মাধ্যেমে আমল করা, তার আখলাকে চরিত্রবান হওয়া, তার আদবে শিষ্টাচার লাভ করা।
  • আমাদের জীবনের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে কুরআনের বিচার বা ফায়সালা মেনে নেওয়া।


(৪) ঈমান বির রসুল- সকল নবী ও রাসুলদের প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব। আল্লাহ তা’য়ালা মানুষের হেদায়াতের জন্য যাদেরকে প্রেরন করেছেন, তাদের মধ্যে প্রথমজন হচ্ছেন নবী যার নাম হযরত নূহ আ. আর শেষজন হচ্ছেন রাসুল যার নাম হচ্ছে হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। রাসুলগন হচ্ছেন মানুষের মধ্যে সর্বউত্তম ও মনোনীত। তাদের মধ্যে কেউ কেউ অন্যদের উপর মর্যাদা প্রাপ্ত। এদের মধ্যে সর্বোচ্চ মর্যাদা প্রাপ্ত হলেন দৃঢ় সংকল্প বিশিষ্ট নবী রাসুলগন তারা হচ্ছেন নূহ আ. ইব্রাহীম আ. মুসা আ. ঈসা আ. ও হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এবং তাদের মধ্যে সর্ব স্রেষ্ট তিনি। তবে রাসুলগন কিন্তু আল্লাহ ছাড়া রাসুলগনের ইবাদত করা এবং তাদেরকে ডাকা জায়েজ নাই। তারা পানাহার করতেন, অসুস্থ হতেন, মৃত্যু বরন করতেন। এক্ষেত্রে তাদের অবস্থা সকল মানুষের মতই।

ভিন্নতা হচ্ছে এই যে, তাদের ভালবাসা, তাদের অনুসরন করা এবং তাদের শত্রুদের থেকে নিজেদেরকে বিচ্ছিন্ন করা অপরিহার্য।

ঈমান বির রসুলের হাকিকত রসুলদের রেসালাতের প্রতি ঈমান এবং তাদের ব্যাপারে যে সমস্ত খবর এসেছে তার প্রতি বিশ্বাস করা। এমনিভাবে খাতামুর রসুল যিনি সকল মানুষের নিকট প্রেরিত হয়েছেন তার শরীয়ত অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব মানা। তিনি হচ্ছেন আমাদের নবী বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। বিশ্বনবীর পর নবুওয়াতের দাবীদার সবাই কাফের। যে ব্যাক্তি বা গোষ্ঠি কিছু সংখ্যাক রাসুলের উপর ঈমান আনে এবং কিছু সংখ্যাক রাসুলকে অস্বিকার করে সে কাফের। কেননা, সে কুরআন ও হাদীস ও বাকী সকল কিতাবকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে সুতরাং যে সকল রাসুলের প্রতি ঈমান এনে তাদের মধ্যে হতে শুধু একজনকেও অস্বিকার করে সে তাদের সকলকে অস্বিকার করল। আল্লাহ তা’য়ালা বলেছেন :

নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ ও তার রাসুলকে অস্বীকার করে এবং আল্লাহ ও তার রাসুলের মধ্যে পার্থক্যে সৃষ্টি করতে চায় আর বলে আমরা কতক রাসুলকে বিশ্বাস করি আর কতক রাসুলকে অস্বীকার করি। (সুরা আন-নিসা-১৫০-১৫২) 

(৫) ঈমান বিল আখেরাত (পরকালে বিশ্বাস) - একজন মুসলমান শেষ দিনের প্রতি ঈমান আনবে আর তা হচ্ছে হিসাব ও প্রতিদানের উদ্দেশ্যে কেয়ামতের দিন। কবর হতে মানুষদেরকে আল্লাহ তা’য়ালা যে দিন পূনর্জীবিত করবেন সে দিন।

ঈমান বিল আখেরাত হচ্ছে-

১. পুনরুত্থানের প্রতি বিশ্বাস।

২. হাশরের প্রতি বিশ্বাস।

৩. হিসাব ও প্রতিদানের প্রতি বিশ্বাস।

৪. জান্নাত ও জাহান্নামের প্রতি বিশ্বাস।

  • ৫. কেয়ামতের আলামতের প্রতি বিশ্বাস। যেমন-
  • পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়া।
  • দাজ্জালের আবির্ভাব ঘন্টা।
  • কবরে মুনকার-নাকীর দুই ফেরেশতার প্রশ্ন, কবরের আজাব এর প্রতি বিশ্বাস করা।
  • মিজান, পুলসিরাত, হাউজে কাউসার, শাফায়াত এবং দিদার।

ঈমান বিল আখেরাতের হাকিকত হচ্ছে:

  • আল্লাহ ভীতি ও তার সার্বক্ষনিক দৃষ্টির প্রতি খেয়াল রাখা।
  • আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যেমে আমল করা অবাধ্য না হওয়া।
  • ঐ দিনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহন করা, সার্বক্ষনিক তাওবা করা।
  • দুঃখ কষ্টে ধৈর্য্য ধরা এবং আল্লাহর কাছে সওয়াবের আশা করা।
  • অন্যদের প্রতি জুলুম করতে চাইলে বাধা প্রদান করা।


(৬) ঈমান বিল কদর (তাকদীরের প্রতি বিশ্বাস) - তাকদীরের চারটি পর্যায় বা স্তর আছে :

১. তাকদীরের বিষয়ে জ্ঞান থাকা।

২. লিপিবদ্ধ করা।

৩. আল্লাহর ইচ্ছা ও কাজের প্রতি অভিপ্রায়।

৪. সৃষ্টি ও ক্ষমতা।

তাকদীরের অর্থ এই নয় যে আমল ছেড়ে দিবে এবং প্রত্যেক ক্ষেত্রে তাকদীরের লিখনের উপর নির্ভর করে বসে থাকবে। আল্লাহ তা’য়ালা প্রত্যেককে ভাল-মন্দ বোঝার ক্ষমতা দিয়েছেন। সুতরাং বান্দার উপর ওয়াজিব হচ্ছে আল্লাহর আনুগত্য অনুযায়ী আমল করা তার নাফরমানি পরিত্যাগ করা। তাকদীর দিয়ে পাপ কর্মের প্রমান দেবে না। এমনিভাবে বান্দার উপর ওয়াজিব হচ্ছে উপায় উপকরন গ্রহন করা এবং তার দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যানের ব্যাপারে চেষ্টা করা আর এসব ক্ষেত্রে আল্লাহর উপর ভরসা করা।

ঈমান বিল কদরের হাকিকত হচ্ছে- 

১. মানসিক শান্তি, আত্মতৃপ্তি ও অন্তরের দৃঢ়তা লাভ হয়।

২. আল্লাহর প্রতি ঈমান বৃদ্ধি। কেননা, নেক আমল বা সৎকর্মের মাধ্যেমে ঈমান বৃদ্ধি পায়।

৩. আত্মহৃষ্টতা হিংসা ত্যাগ করা এবং আল্লাহ যা বন্টন করে দিয়েছেন তাতে প্রসন্নতা আসে।

৪. বালা-মুসিবতে ধৈর্য্য ও দৃঢ়তা লাভ হয়।


No comments:

Post a Comment

Blogroll

About