(১) নিয়তের সাথে আদব : নিয়তের একটি অসাধারন গুরুত্ব আছে। নিয়তের বিশুদ্ধতার উপর নির্ভর করে আমলের গ্রহনযোগ্যতা। নিয়ত শুদ্ধ না হলে আমল বাতিল হয়ে যায়। নিয়ত হচ্ছে কোন কাজের জন্য দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হওয়া। আর যখন এই নিয়ত আল্লাহর হুকুম পালনার্থে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য হয় তখনই তা বিশুদ্ধ হয়। আর যখন এই নিয়ত হয় দুনিয়ার কোন উদ্দেশ্যে মানুষের প্রশংসা অর্জনের জন্য বা খ্যাতির জন্য বা দেশে নিজেকে প্রকাশ করার জন্য তখন নিয়তও বাতিল হয়ে যাবে এবং আমলও কবুল হওয়ার অযোগ্য হয়ে যাবে। যেমন প্রিয়নবী ﷺ বলেছেন-
নিশ্চয়ই সকল আমলই নিয়তের উপর নির্ভরশীল। আর প্রত্যেক ব্যাক্তির জন্য তাহাই হবে যাহার জন্য সে নিয়ত করেছে। (বুখারী ও মুসলিম শরীফ)
(২) আল্লাহর সাথে আদব : -
১. একজন মুসলমান খুব ভালভাবে জানে যে আল্লাহ পাকই তাকে সৃষ্টি করেছেন এবং তিনিই তাকে রিজিক দিচ্ছেন, তিনিই তাকে সর্ব প্রকার নিয়ামত দিচ্ছেন এবং তার উপর থেকে সর্ব প্রকার কষ্ট বিদুরিত করছেন। সুতরাং তাকে অবশ্যই তার রবের সাথে সর্বোচ্চ আদব প্রদর্শন করতে হবে।
২. আল্লাহর সাথে আদবের অন্যতম একটি দিক হলো তার শরীয়তের পরিপূর্ন অনুসরন করা আর তা হলো আদিষ্ট বিষয়াবলী পালন এবং নিষেধকৃত বিষয়াবলী বর্জনের মাধ্যেমে।
৩. শরীয়ত সম্মত কোন কাজের বিপক্ষে যুক্তি পেশ করা থেকে বিরত থাকা। আল্লাহ পাক বলেন কোন মুমিনেরই উচিৎ নয় আল্লাহ এবং তার রাসুলের দেয়া ফায়সালার উপর কোন খুত ধরা। (সুরা আহযাব-৩৬) আল্লাহ রব্বুল আলামীন বলেন মুমিনদের কথাতো এমনই হবে যে, যখনই তাদের মধ্যকার কোন ফায়সালার জন্য তাদেরকে আল্লাহ এবং তার রাসুলের দিকে আহবান করা হবে তখন তারা বলবে শুনলাম এবং মানলাম। (সুরা নুর-৫১)
৪. আল্লাহর সাথে আদব রক্ষার আরেকটি দিক হলো তার নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা এবং তাকে বেশী বেশী স্বরন করা এবং অধিক পরিমানে দোয়া করা এবং সকল কাজেই তার কাছে আশ্রয় গ্রহন করা তাকে ভালবাসা। তার শাস্তিকে ভয় করা তার কাছে সওয়াবের আশা করা তার মহান কিতাব পবিত্র কুরআন বেশী বেশী তেলাওয়াত করা সকল প্রকার কবিরা ও সগিরা গুনাহ থেকে বেচে থাকা।
(৩) কুরআনের সাথে আদব : একজন মুসলমান আল্লাহর কিতাব কুরআনের সাথে আদব রক্ষা করে চলবে উহাকে সম্মান করবে সকল কালামের মাঝে এ কালামকে প্রাধান্য দিবে। এমনিভাবে কুরআনে বর্নিত আদব ও আখলাক অনুসরন করে চলবে। কুরআন তেলাওয়াতের সময় নিম্নোক্ত বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখবে।-
- পরিপূর্ন পবিত্রতার সাথে কিবলামুখি হয়ে বসে তেলাওয়াত করা।
- কুরআনের আয়াত এবং তার অর্থ নিয়ে চিন্তা ও গবেষনা করা।
- শুধু জানা বা আমলের জন্যই নয় বরং ইবাদতের নিয়তেও তেলাওয়াত করা।
- অত্যান্ত ধীরে ধীরে তারতীলের সাথে তেলাওয়াত করা, তাড়াহুড়া না করা।
- সুন্দর স্বরে তেলাওয়াত করা ও খুশুখুজু বজায় রাখা।
(৪) রাসুল ﷺ এর সাথে আদব : একজন মুসলমান রাসুল ﷺ এর সাথে আদব রক্ষা করবে। কেননা, তিনিই হলেন সর্ব শ্রেষ্ট এবং সর্বশেষ নবী, যাকে আল্লাহ তা’য়ালা মানবজাতীকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নিয়ে আসার জন্য প্রেরন করেছেন। রাসুলের সাথে আদব রক্ষা করার দিকগুলো হলো :
- তার আদেশের অনুগত হওয়া এবং তিনি যে সকল কাজ থেকে নিষেধ করেছেন এবং ধমক দিয়েছেন সেগুলো থেকে বিরত থাকা।
- অপরিহার্যভাবে রাসুল ﷺ কে ভালবাসা।
- তার সুন্নাতের অনুগত হওয়া এবং আদব আখলাকে তার অনুকরন করা।
- তার আনিত বিধান জীবনের সর্বক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা করা।
- তার অনুসারী ও বন্ধুদেরকে ভালবাসা এবং শত্রুদেরকে ঘৃনা করা।
(৫) স্বীয় আত্মার সাথে আদব :-
১. একজন মুসলমান সর্বদা মনে মনে হিতোপদেশ এবং আদবের দিকগুলো স্বরন করবে যাতে করে পবিত্র ও উন্নত রাখতে পারে। আর নফসকে লালসার পিছনে ছেড়ে দিবে না যাতে সে অন্যায় করে। যারা নিজেরা নিজেদের নফসের হিসাব রাখে তাদের প্রশংসায় আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন সেই ব্যাক্তি সফলকাম যে নফসকে পরিশুদ্ধ করেছে আর সেই ব্যাক্তি ক্ষতিগ্রস্ত যে আত্মাকে কলুষিত করেছে। (সুরা শামস- ৯-১০)
২. কোন মুসলমান মাসুম বা বেগুনাহ নাই বরং সে কখনও কখনও গুনাহে লিপ্ত হয়ে যায় কিন্তু মুসলমান হিসেবে তাকে নফসের সাথে জিহাদ করতে হবে, যাতে সে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হয়। বরং সে দ্রুত সৎপথে ফিরে আসবে এবং তাওবা করবে। মনে রাখা দরকার খাটি তওবার জন্য তিনটি শর্ত-
(ক) গুনাহের কাজটি ছেড়ে দেওয়া।
(খ) গুনাহের কাজটির জন্য অনুশোচনা।
(গ) ঐ গুনাহের কাজটি ভবিষ্যতে না করার দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেয়া। যখন কোন মুসলিম সত্যিকারার্থে তওবা করে। তখন মহান আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন এবং তার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেন। তার সমস্ত বদ আমলগুলি মিটিয়ে দেন। আল্লাহ বলেন- হে মুমিনগন! তোমরা খাটিভাবে আল্লাহর কাছে তওবা কর তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের সমস্ত পাপ মাফ করে দিবেন এবং তোমাদেরকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার তলদেশে নহর সমুহ প্রবাহিত। (সুরা তাহরীম-৮)
(৬) মানুষের সাথে আদব : একজন মুসলমান তার কথা-বার্তা, চাল-চলন, আচার-আচরনে মানুষের সাথে আদব বা ভদ্রতা প্রদর্শন করবে। কেননা, মর্যাদার বিবেচনায় প্রতি শ্রেনীর মানুষেরই পৃথক আদব রয়েছে। মানুষের সাথে আচার-আচরনে আদব প্রদর্শনের প্রকৃতি ও নমুনা যেমন হওয়া উচিৎ।-
- মুসলমান তার পিতা-মাতার সাথে সর্বক্ষেত্রে আনুগত্য প্রদর্শন করবে আল্লাহর অবাধ্যতার নয়। তাদেরকে মর্যাদা দিবে। কথা-কাজে তাদেরকে সম্মান দেখাবে তাদের সাথে কর্কশ ভাষায় কথা বলবে না। তাদেরকে নাম ধরে ডাকবে না। তাদের প্রতি সর্বদা ইহসান করবে প্রয়োজনে তাদের জন্য অর্থ ব্যয় করবে।
- মুসলমান মাত্রই একথা জানে যে, তার সন্তানদের উপর তার কিছু কর্তব্য আছে। যেমন উত্তম লালন-পালন করা, তাদের ব্যয়ভার গ্রহন করা, তাদেরকে পড়া-লিখা শিক্ষা দেয়া, আদব-কায়দা ও আচার-আচরন শিক্ষা দেয়া, বিবাহের উপযুক্ত হলে তাদের জন্য সৎদ্বীনদার পাত্র-পাত্রী নির্বাচন করা।
- মুসলমান স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার পারস্পারিক আদব রক্ষা করাটাও জরুরী । যেমনিভাবে কুরআনে আল্লাহর বানী নারীদের উপর যেমন পুরুষদের ন্যায়সংগত অধিকার আছে। তবে নারীদের উপর পুরুষদের অধিকার বেশী আছে।
ইসলাম ধর্ম স্বামীকে তার স্ত্রীর সাথে যে সব আদব বজায় রাখতে নির্দেশ দিয়েছে। তা হলো-
১. ধৈর্য্যশীলতা এবং কোমল আচরন। যেমন নবী করীম ﷺ বলেছেন তোমরা মহিলাদের কল্যান কামনা কর। কেননা, তাদেরকে তোমাদের পাজরের বাকা হাড় দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে। আর তুমি তা সোজা করতে পারবে না। সোজা করতে চাইলে ভেঙ্গে যাবে। আর একেবারে ছেড়ে দিলে সর্বদাই বাকা থাকবে। সুতরাং মহিলাদের ব্যাপারে কল্যান কামনা করতে থাক। (বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ)
২. ন্যায় সংগতভাবে স্ত্রীর ভরন পোষনের ব্যবস্থা করা। এটা ইসলাম স্বামীর উপর ওয়াজিব করে দিয়েছে।
৩. স্ত্রীর সাথে সদাচরন করা। যেহেতু নবী করীম ﷺ বলেছেন তোমাদের মধ্যে সেই ব্যাক্তি উত্তম যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম। (আহমাদ ও তিরমীযি শরীফ)
৪. স্ত্রীকে ভালবাসা, ঘৃনা না করা। যেহেতু রাসুল ﷺ এর বানী কোন মুমিন স্বামী যে কোন মুমিনা স্ত্রীকে নিজের কাছ থেকে পৃথক না করে। যদি সে তার কোন আচরনে পছন্দ না করে তাহলে অন্য আচরনে যেন সন্তুষ্ট থাকে। (মুসলিম শরীফ)
৫. কোন স্বামী যেন তার স্ত্রীর উপর অত্যাচার না করে।
৬. অশ্লীল কাজ হতে পবিত্র করবে এবং উপভোগের অধিকার দিবে।
৭. কোন স্বামীর জন্য তার স্ত্রীর গোপন কথা প্রকাশ করা হারাম।
৮. স্ত্রীর দোষ-ত্রুটি খুজে বের করা হারাম।
৯. স্ত্রীকে ইসলামী শিক্ষা দেয়া এবং সৎকাজের আদেশ করা ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করে ফিরিয়ে রাখা স্বামীর দায়িত্ব, যেহেতু স্ত্রী স্বামীর জীবন সঙ্গিনী।
১০. প্রয়োজনে স্ত্রীর সাথে খেলাধুলা করা এবং তাকে ভালবাসা। যেমনিভাবে প্রিয় নবী ﷺ তার প্রিয়তমা স্ত্রী, আম্মাজান হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রাযি. এর সাথে করেছিলেন। আয়েশা রাযি. থেকে বর্নিত তিনি বলেন, আমি প্রিয় নবী ﷺ এর সাথে কোন এক ভ্রমনে বের হলাম। তখন আমি বালিকা ছিলাম এবং ভারী ও মোটা ছিলাম না। তিনি লোকজনকে বললেন তোমরা সামনে যাও, লোকজন সামনে অগ্রসর হয়ে গেলো। তিনি আমাকে ডাকলেন, হে আয়েশা! এদিকে আস, আমি তোমার সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করব। তারপর আমি তার সাথে দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করলাম। এবং আমি বিজয়ী হলাম। তখন তিনি চুপ ছিলেন। অতপর যখন আমার শরীর বেড়ে গেল, আমি মোটা হয়ে গেলাম। তখন আমি তার সাথে কোন এক ভ্রমনে বের হলাম তিনি মানুষদেরকে বললেন, তোমরা সামনে অগ্রসর হও। তারা সামনে অগ্রসর হলো। পরে তিনি আমাকে বললেন, আয়েশা! তুমি এস, আমি তোমার সাথে দৌড় প্রতিযোগিতা করব। এবার দৌড় প্রতিযোগিতায় তিনি বিজয়ী হলেন। তারপর তিনি হাসতে লাগলেন আর বললেন এবারের বিজয় গত বারের বিজয়ের বিনিময়। (আহমদ, আবু দাউদ শরীফ) ইনিই হলেন ইসলাম ধর্মের নবী এবং এটাই হচ্ছে তার স্ত্রীর সাথে সদাচরন।
- একজন মুসলমান তার নিকটাত্মীয়দের সাথে ও তার রক্ত সম্পর্কীয় লোকদের সাথে ভদ্রতা সুলভ আচরন করবে তারা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করলেও সে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখবে। তারা তাকে বিরক্ত করলেও সে তাদের সাথে সদাচরন করবে। তারা তার সাথে দুর্ব্যবহার করলেও সে তাদের সাথে সৎ ব্যবহার করবে। সে তাদের মধ্যে বড়দেরকে সম্মান করবে এবং ছোটদেরকে স্নেহ করবে। তাদের রোগীদের সেবা করবে এবং তাদের বিপদগ্রস্ত লোকদেরকে সমবেদনা জানাবে এবং তাদের বিপদে-আপদে এগিয়ে আসবে। কেননা, আল্লাহ তা’য়ালা বলেছেন- আত্মীয়কে তার হক দিয়ে দাও এবং মিসকিন ও পথিককে সাহায্যে কর। (সুরা বনী ইসরাঈল-২৬)
- পবিত্র ধর্ম ইসলাম প্রতিবেশীদের হক নির্ধারন করে দিয়েছে যেমনিভাবে নিকত্মীয়দের হক আদায়ের নির্দেশ দিয়েছে। এগুলো হচ্ছে তাদের সাথে কথায় কাজে সদাচরন করা এবং তাদেরকে কষ্ট না দেয়া এবং প্রতিবেশীর ক্ষতি হবে এমন কোন কাজ না করা তাদেরকে সম্মান করা এবং ঠাট্টা-বিদ্রূপ না করা। যেমন নবী করীম ﷺ বলেছেন। জিব্রাঈল আ. সর্বদাই আমাকে প্রতিবেশীর ব্যাপারে অসিয়ত করতেন এমন কি আমি কি ধারনা করতে লাগলাম যে হয়তোবা অচিরেই আমাদের প্রতিবেশীকে আমাদের সম্পদে ওয়ারিশ বানাইয়া দিবেন। (বুখারী ও মুসলিম শরীফ)
প্রিয় নবী ﷺ বলেছেন যে ব্যাক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে সে যেন তার প্রতিবেশীকে সম্মান করে।(বুখারী ও মুসলিম)
(৭) এক মুসলমানের উপর অপর মুসলমানের হক সম্পর্কীয় আদব : এক মুসলমানের উপর অপর মুসলমানের অনেক হক আছে। যেমন-
১. যখন তার সাথে দেখা হবে তখন তাকে সালাম দিবে এবং সে সালাম দিলে তার সালামের উত্তর দিবে।
২. যখন সে হাচি দিয়ে الحمد لله (আলহাদুলিল্লাহ) বলবে তখন তার জবাবে يرحمك الله (ইয়ারহাকাল্লাহ) বলবে সে তার প্রতি উত্তরে يهديكم الله و يصلح بالكم (ইয়াহদীকুমুল্লাহু ওয়া ইউছলিহু বা লাকুম) বলবে।
৩. নিজের জন্য যা পছন্দ করবে অপর ভাইয়ের জন্য তাই পছন্দ করবে
৪. সে তার মুসলমান ভাইয়ের সাহায্যে করবে এবং এমন স্থানে তাকে লাঞ্ছিত করবে না যেখানে তার সাহায্যে পাওয়ার সে মুখাপেক্ষী।
৫. যে কোন ব্যাপারে পরামর্শ চাইলে সু-পরামর্শ দিবে।
৬. রুগ্ন হলে তার সেবা করবে এবং মারা গেলে তার জানাযার নামাজে অংশগ্রহন করবে। এবং তার জন্য দোয়া করবে।
৭. তার জন্য বিনয়ী থাকবে। কখনও অহংকারী হবে না।
৮. তার গীবত করবে না। তাকে তুচ্ছজ্ঞান করবে না। তার দোষ ত্রুটি বের করবে না। তার উপর কোন মিথ্যা আরোপ করবে না। এবং তাকে ধোকা দিবে না। তাকে গালি দিবে না। তাকে হিংসা ও ঘৃনা করবে না। তার প্রতি মন্দ ধারনা করবেনা। তার গোপনীয় বিষয় জানার জন্য গোয়েন্দাগীরি করবে না। তার কোন আমানতের খেয়ানত করবে না। এবং তিন দিনের বেশী তার সাথে কথা বলা বন্ধ করবে না।
৯. তার দোষ ত্রুটি ক্ষমা করবে। তার দোষ গোপন রাখবে। তার অগোচরে তার সম্মান রক্ষা করবে। তার প্রতি ন্যায় বিচার করবে এবং তার সাথে এমন আচরন করবে যা সে পছন্দ করে। সে বড় হলে তাকে সম্মান করবে। ছোট হলে স্নেহ করবে। সাহায্যের মুখাপেক্ষী হলে তাকে সাহায্যে করবে।
(৮) কাফের বা অমুসলিমদের সাথে আদব : যে ব্যাক্তি আল্লাহ ও তার রাসুলের প্রতি কুফুরী করে তাকে মুসলমানরা বন্ধু মনে করবে না। তাকে ভালবাসবে না এবং তাকে কুফুরী অবস্থায় মেনে নিবে না। কুফুরীর কারনে তাকে অপছন্দ করবে। এতদসত্তে¡ও তার উপর অত্যাচার করবে না। বরং তার সাথে ইনসাফ করবে। তার জান-মাল ও ইজ্জতের উপর আঘাত হানবে না। তাকে অহেতুক কষ্ট দিবে না। যদি সে মুসলমানদের সাথে যুদ্ধে জড়িত না থাকে। এমনিভাবে তার সাথে করুনা দেখাবে। যেমন ক্ষুধার্থ হলে তাকে খাওয়াবে, পিপাসিত হলে পান করাবে, রুগ্ন হলে সেবা করবে। রাসুলে কারীম ﷺ বলেছেন, করুনাশীলদের রহমান আল্লাহ পাক করুনা করেন। তোমরা জমীনবাসীদের উপর দয়া কর। তাহলে আসমানবাসী তোমাদের উপর দয়া করবেন। (আহমাদ, বায়হাকী)
অমুসলিমদের সাথে যদি মুসলমানদের এমন আদব ও চরিত্র হয়। তাহলে তার মুসলমান ভাইয়ের সাথে কেমন আচরন হওয়া উচিৎ।
(৯) মুসলমানের উপর জীব-জন্তুর অধিকার : শত শত বৎসর পূর্বেই ইসলাম জীব-জন্তুর জন্য অধিকার নিরূপন করেছে। যেমন :-
- ক্ষুধায় ও পিপাসায় খাদ্যে ও পানীয় প্রদান করা।
- তার প্রতি দয়া ও মহানুভবতা দেখানো এবং তাকে উদ্দেশ্য মূলকভাবে ব্যবহার না করা।
- জবেহ করার সময় তাকে কষ্ট না দেয়া। কেননা প্রিয় নবী ﷺ বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক সকল সৃষ্টির সাথে সদাচরন করাকে ফরজ করে দিয়েছেন। অতএব, যখন তোমরা জবেহ করবে তখন সুন্দর সঠিক পন্থায় জবেহ করবে। আর যখন কোন প্রানী হত্যা করবে তখন সুন্দর পন্থায় হত্যা করবে। আর তোমাদের ছুরিকে যেন ভালভাবে ধার দিয়ে নেয় যাতে পশু কষ্ট না পায়। (মুসলিম শরীফ)
- তাকে কোন প্রকার শাস্তি দিবে না। চাই তা খাবার বন্ধ রাখার মাধ্যেমে হোক বা প্রহার করার মাধ্যেমে হোক অথবা তার দ্বারা অসম্ভব বোঝা বহন করানোর মাধ্যেমে হোক অথবা তার কোন অঙ্গচ্ছেদ করে হোক বা তাকে আগুনে পুড়ানোর মাধ্যেমে হোক। নবী করীম ﷺ বলেছেন, এক মহিলা একটা বিড়ালকে কষ্ট দেওয়ার কারনে দোজখে প্রবেশ করেছে। সে তাকে আটকে রেখে খাবার বন্ধ রেখে মেরেছিল। তাকে খাবার ও পানীয় দেয় নাই এবং ছেড়েও দেয় নাই।
No comments:
Post a Comment