আল্লাহর সহিত শিরক করা হারাম
সঠিকভাবে শিরক হচ্ছে সবচেয়ে জঘন্য ও মহা নিষিদ্ধ কাজ। আল্লাহ তা’য়ালা বলেন-
ان الله لا يغفر ان يشرك به ويغفر ما دون ذالك لمن يشاء
নিশ্চয়ই আল্লাহ তার সাথে শিরক করা ক্ষমা করবেন না। এছাড়া বাকী সব কিছুই যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন। আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, নিশ্চয়ই যে ব্যাক্তি আল্লাহর সহিত শিরক করে আল্লাহ তার উপর জান্নাত হারাম করে দেন। তার আশ্রয় স্থান হচ্ছে আগুন আর জালেমদের কোন সাহায্যেকারী নাই। (সুরা আল-মায়েদাহ- ৭২)
মানুষ জীবনে অনেক শিরক করে থাকে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে কবরের ইবাদত করা। আল্লাহ তা’য়ালা ছাড়া মৃত্যুব্যাক্তির নিকট দোয়া করা। আল্লাহ যা হালাল করেছেন তা হারাম মনে করা আর যা হারাম করেছেন তা হালাল মনে করা। আরোও আছে এ বিশ্বাস করা যে আল্লাহ ব্যাতিত সৌরজগতের আবর্তন ও এই বিশ্ব জগতের অনেক কিছুতে প্রকৃতির ও অন্যের প্রভাব আছে।
মানুষ হত্যা করা হারাম
আল্লাহ তা’য়ালা বলেছেন-
ومن يقتل مؤمنا متعمدا فجزائه جهنم خالدا فيها وغضب الله عليه و لعنه و اعدله عذابا عظيما
যে ব্যাক্তি কোন মুমিনকে ইচ্ছা করে হত্যা করে তার পরিনাম হচ্ছে চিরস্থায়ী জাহান্নাম। আল্লাহ তার উপর রাগানি¦ত হয়ে যান। তাকে অভিশাপ করেন এবং তার জন্য মহাশাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন। (সুরা নিসা-৯৩)
রাসুল ﷺ কবিরা গুনাহের বর্ননা করতে গিয়ে বলেন, আল্লাহর সহিত শিরক করা, মা-বাবার অবাধ্যে হওয়া এবং কোন আত্মাকে হত্যা করা। (বুখারী ও মুসলিম শরীফ)
মাদক দ্রব্য পান করা হারাম
এ ব্যাপারে আল্লাহ তা’য়ালা বলেন-
يا ايها الذين امنوا انما الخمر والميسر والانصاب والازلام رجس من عمل الشيطان فاجتنبوه لعلكم تفلحون
নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, মুর্তিপূজা এবং ভাগ্য নির্ধারক অর্থাৎ জ্যোতিষি ও যাদুকরের কথা বিশ্বাস করা এবং তাদের কথার উপর নির্ভর করে কোন কিছুর ভাল-মন্দ, শুভ-অশুভ নির্ধারন করা শয়তানের কাজ ছাড়া কিছুই না। অতএব, এগুলো থেকে বিরত থাক। যাতে তোমরা সফলতা লাভ করতে পার। (সুরা মায়েদা-৯০)
প্রত্যেক এমন বস্তু যা মাতলামি, উন্মাদনা, বিবেক বিনষ্ট করে তা হারাম। সকল প্রকার মাদকদ্রব্য, ধুমপানও এর মধ্যে শামিল। চাই তা খাওয়া, পান করা, ঘ্রান নেওয়া, ইনজেকশন নেওয়া অথবা চুষা ইত্যাদি যে কোন মাধ্যেমেই হোক না কেন এসব কিছু হারাম।
ব্যাভিচার করা হারাম
আল্লাহ পাক বলেন-
ولا تقرب الزنا انه كان فاحشة وساء سبيلا
তোমরা ব্যাভিচারের নিকটবর্তি হয়ো না। কেননা ইহা একটি অশ্লীল কাজ ও নিকৃষ্টতম পথ। (সুরা বনী ইসরাঈল-৩২)
রাসুল ﷺ বলেছেন ব্যাভিচারী ব্যাক্তি যখন ব্যাভিচার করে তখন ঐ অবস্থায় সে মুমিন থাকে না। (মুসলিম শরীফ)
ব্যাভিচার নারী পুরুষের লজ্জাশীলতাকে হত্যা করে এবং শারীরিক ও মানসিক বিভিন্ন প্রকার রোগে আক্রান্ত করে এবং সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে ইহা আল্লাহকে রাগানি¦ত করে।
সমকামিতা করা হারাম
আল্লাহ তায়ালা বলেন-
ولا تقربوا الفواحش ما ظهر منها وما بطن
প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে কোন অশ্লীল কাজের নিকটবর্তী হয়ো না। (সুরা আনআম-১৫১)
রাসুল ﷺ বলেন, যে ব্যাক্তিকে তোমরা লুত আ. এর জাতীর মত কাজ করা অবস্থায় পাও তাহলে যে করছে এবং যার সাথে করছে অর্থাৎ সমকামী উভয়কে হত্যা কর।
আলবানী রহ. বলেন- লেওয়াতাত হচ্ছে পুরুষ আরেক পুরুষের সাথে কামলালসা পুরন করা।
সিহাক হচ্ছে একজন নারী আরেকজন নারীর সাথে সমকামিতা করা। বর্তমান যুগে মানবতা বিকৃত হয়ে গিয়েছে ফলে ঐ সব রুচিহীন সমকামীদের অধিকার আদায়ের নামে ধোয়া তোলা হচ্ছে। এমনকি ইউরোপের পার্লামেন্টগুলোতেও তাদের স্বপক্ষে ভোট পরছে এবং কিছু কিছু চার্চ সমকামিদের বিয়েকে বৈধ করে দিয়েছে এবং তার মঙ্গল কামনা করছে।
জুয়া বা বাজি খেলা হারাম
আল্লাহ তায়ালা বলেন-
يا ايها الذين امنوا انما الخمر والميسر والانصاب والازلام رجس من عمل الشيطان فاجتنبوه لعلكم تفلحون
মদ, জুয়া, প্রতিমা সমূহ এবং ভাগ্য নির্ধারক সমূহ অপবিত্র এবং শয়তানের কাজ বৈ কিছুই নয়। অতএব এগুলো থেকে বিরত থাক যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। (সুরা মায়েদা-৯০)
বর্তমানে বেশীরভাগ দেশেই জুয়া বা বাজির ক্লাব সমূহ প্রসার লাভ করেছে যেমনিভাবে এ সকল জুয়াড়ি ক্লাবের ইন্টারনেটে ও বিশেষ বিশেষ ওয়েবসাইট রয়েছে। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে এসব জুয়াড়ি ক্লাবের সম্পর্ক থাকে প্রসটিটিউট বা বারবনিতাদের ঘরের সাথে। ফলে এর মাধ্যেমে আরও অনেক নিষিদ্ধ কাজও ধ্বংসকারী কাজ একত্রে সংঘটিত হয়।
চুরি করা হারাম
আল্লাহ পাক বলেন-
السارق والسارقة فاقطعوا ايديهما جزاء بما كسبا نكالا من الله. والله عزيز حكيم
চোর নর-নারী তাদের উভয়ের হাত কেটে দাও, তাদের কর্মের প্রতিদান হিসাবে আল্লাহর পক্ষ হতে শাস্তি সরূপ। (সুরা মায়েদা-৩৮)
চুরি করা কবিরা গুনাহ ও জঘন্য হারাম কাজ। চুরি এমন একটি অপরাধ যা মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া, স্বেচ্ছাচারিতাও মানুষের মধ্যে ত্রাস সৃষ্টির দিকে ঠেলে দেয়। অনেক জীবন এতে বিপন্ন হয়েছে। একমাত্র চুরির অপরাধের কারনে অনেক অপরাধ যা সংঘঠিত হয়েছে। একারনেই ইসলামে চুরির শাস্তি কঠোর করা হয়েছে। যাতে করে মানুষ তাদের জীবন, সম্পদ ও বাড়ী ঘরে নিরাপদ হতে পারে।
সুদ খাওয়া হারাম
আল্লাহ পাক বলেন-
يا ايها الذين امنوا اتقوا الله وذرو ما بقي من الربوا ان كنتم مؤمنين. فان لم تفعلوا فأذنوا بحرب من الله و رسوله.
হে ঈমানদারগন! আল্লাহকে ভয় কর এবং তোমরা তোমাদের অবশিষ্ট সুদ ছেড়ে দাও যদি তোমরা মুমিন হও। যদি এমন না কর তবে আল্লাহ এবং তার রাসুলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষনা শুনে নাও। (সুরা বাকারা- ২৭৮-২৭৯)
রাসুল ﷺ সুদদাতা, সুদগ্রহীতা, সুদের লেখক ও সুদের লেনদেনের স্বাক্ষীদ্বয়কে অভিশাপ দিয়েছেন এবং বলেছেন তারা সবাই সমান। (মুসলিম শরীফ)
ঘুষ গ্রহন করা হারাম
আল্লাহ তায়ালা বলেছেন-
وتعانوا على البر والتقوى ولا تعاونوا على الاثم والعدوان
আর তোমরা পুন্য ও তাকওয়ার ভিত্তিতে পরস্পর সহযোগিতা কর। পাপাচার ও সীমালংঘনের উপর পরস্পর সহযোগীতা করিও না। (সুরা মায়েদা-২)
ঘুষ হচ্ছে অন্যায় ও পাপাচারের উপর একে অপরকে সহযোগিতা করা। রাসুল ﷺ বলেছেন, ঘুষদাতা ও গ্রহিতা উভয়ের উপর আল্লাহর অভিশাপ। (আহমাদ ও আবু দাউদ শরীফ)
কর্মচারী-বিচারক এবং সকল দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যাক্তি ঘুষ নেয়া ব্যাতিত যদি তার কাজ না করে তবে তার উপর অভিশাপ পরবে।
ধোকা দেওয়া হারাম
রাসুল ﷺ ইরশাদ করেছেন-
من غشنا فليس منا
যে ব্যাক্তি ধোকা দেয় সে আমার উম্মত নয়। (মুসলিম শরীফ)
বর্তমান সমাজে ব্যবসায়ীদের মধ্যেই সবচেয়ে বেশী ধোকাবাজি হয়ে থাকে। তাই তাদের জন্য ওয়াজিব হচ্ছে সত্য কথা বলা। পন্যের দোষ-ত্রুটি বলে দেয়া। অতিরিক্ত লাভের আশায় পন্যের দোষ-ত্রুটি গোপন না করা। ধোকা না দেয়া কেননা এসব মুসলমানের চরিত্র নয়।
অনাত্মীয় নারীর সাথে নির্জনতা হারাম
রাসুল ﷺ ইরশাদ করেছেন, কোন একজন পুরুষ কোন একজন মহিলার সাথে নির্জনে থাকলেই তাদের মাঝে তৃতীয়জন থাকে শয়তান। (তিরমীযি শরীফ)
স্ত্রীর পায়ু পথে গমন করা হারাম
রাসুল ﷺ ইরশাদ করেছেন, যে ব্যাক্তি তার স্ত্রীর পায়ু পথে গমন করে সে অভিশপ্ত। (আহমাদ ও আবু দাউদ শরীফ)
রক্তস্রাব অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করা হারাম
আল্লাহ তায়ালা বলেন-
ويسئلونك عن المحيض قل هو اذًى فاعتزلوا النساء في المحيض. ولا تقربوهن حتى يطهرن فاذا تطهرن فأتوهن من حيث امركم الله.
তাহারা আপনাকে রক্তস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে, আপনি বলুন তা অপবিত্র তোমরা হায়েজের সময় স্ত্রীদেরকে ত্যাগ করবে তারা পবিত্র হওয়া পর্যন্ত। তাদের নিকটবর্তী হয়ো না, যখন তারা পবিত্র হবে তখন আল্লাহ যে ভাবে নির্দেশ দিয়েছেন সেভাবে তাদের নিকট আস। (সুরা বাকারা-২২২)
মা-বাবার অবাধ্য হওয়া এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা হারাম
আল্লাহ পাক বলেন-
فهل عسيتم ان توليتم انتفسدوا في الارض وتقطعوا ارحامكم. الئك الذين لعنمهم الله. فاصمهم واعمى ابصارهم
ইহা কি সম্ভব যে তোমরা ক্ষমতা পেলে পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং তোমাদের আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করবে, ইহারা তো ঐসব লোক যাদের প্রতি আল্লাহ তায়ালা অভিশাপ করেছেন। এরপর তাদেরকে অন্ধ ও বধির করে দিয়েছেন। (সুরা মুহাম্মাদ- ২২-২৩)
রাসুল ﷺ বলেছেন, তোমাদেরকে কি সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহ সমূহের সংবাদ দেব না ? আর তা হচ্ছে আল্লাহর সাথে শিরক করা, মা-বাবার অবাধ্যে হওয়া, মিথ্যা কথা বলা। (বুখারী ও মুসলিম শরীফ)
রাসুল ﷺ বলেন, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী বেহেশতে প্রবেশ করবে না। (বুখারী ও মুসলিম শরীফ)
এতিমদের সম্পদ ভোগ করা হারাম
আল্লাহ তায়ালা বলেছেন-
ان الذين ياكلون اموال اليتمى ظلما انما ياكلون في بيوتهم نارا و سيصلون سعيرا
নিশ্চয়ই যারা অন্যায়ভাবে এতিমদের সম্পদ ভোগ করে তারা যেন জাহান্নামের প্রজ্জলিত আগুনে প্রবেশ করবে। (সুরা নিসা-১০)
আত্মহত্যা করা হারাম (মহাপাপ)
আল্লাহ তায়ালা বলেন-
ولاتقتلوا انفسكم. ان الله كان بهم رحيما. ومن يفعل ذالك عدوانا وظلما فسوف نصليه نارا. وكان ذالك على الله يسيرا
তোমরা নিজেদেরকে হত্যা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি দয়ালু। যে ব্যাক্তি অন্যায়ভাবে সিমালংঘন করে অচিরেই আমি তাকে জাহান্নামের আগুনে প্রবেশ করাবো আর তা আল্লাহর জন্য সহজ। (সুরা নিসা- ২৯-৩০)
মিথ্যা কথা বলা হারাম
আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন-
ثم نبتهل فنجعل لعنت الله على الكاذبين
অতপর আমরা প্রার্থনা করি এবং তাদের প্রতি আল্লাহর অভিশাপ করি যারা মিথ্যাবাদী।
রাসুল ﷺ ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই মিথ্যা মানুষকে পাপাচারের দিকে নিয়ে যায় আর পাপাচার জাহান্নামের আগুনের দিকে নিয়ে যায়। (বুখারী ও মুসলিম শরীফ)
জুলুম করা হারাম
আল্লাহ বলেন-
انه لا يفلح الظالمون
নিশ্চয়ই জালেমরা সফলকাম হবে না। (সুরা কাসাস-৩৭)
আল্লাহ পাক আরোও বলেন-
يوم لا ينفع الظالمون معذرتهم ولهم اللعنة ولهم سوء الدار
কেয়ামতের দিন জালেমদের কোন অজুহাত তাদের কোন উপকার করবে না। তাদের জন্য রয়েছে অভিশাপ এবং নিকৃষ্ট আবাসস্থল। (সুরা দাহর-৫২)
রাসুল ﷺ ইরশাদ করেছেন, জুলুম করো না কেননা জুলুম কেয়ামতের দিন অনেকগুলো অন্ধকারে পরিনত হবে। (মুসলিম শরীফ)
কুলক্ষন মনে করা হারাম
রাসুল ﷺ ইরশাদ করেন, কোন কিছুতেই কুলক্ষন মনে করা শিরক। (সুনানের সংকলন)
আলবানী সহীহ বলেছেন, কিছু কিছু মানুষ হতে কুলক্ষন নেয়া অথবা কিছু কিছু সংখ্যা যেমন ১৩ ইত্যাদি এ ধরনের সব কার্যকলাপ কুলক্ষন মনে করার মধ্যে গন্য হবে।
কারো দোষ তালাশ করা হারাম
রাসুলে কারীম ﷺ ইরশাদ করেন, হে আমার সাহাবাগন! সেই সম্প্রদায় যারা মূখে মূখে ইসলাম গ্রহন করেছে অথচ ঈমান তাদের অন্তরে প্রবেশ করে নাই। তোমরা মুসলমানদেরকে কষ্ট দিও না, তাদেরকে লজ্জা দিও না, তাদের দোষ খুজে বের করো না। কেননা, যে ব্যাক্তি তার মুসলমান ভাইয়ের দোষ-ত্রুটি তালাশ করে আল্লাহ তার দোষ-ত্রুটি তালাশ করবেন। আর আল্লাহ যার দোষ-ত্রুটি তালাশ করে বের করবেন তাকে লাঞ্চিত করবেন যদি সে তার ঘরের ভিতরে থাকে অর্থাৎ আল্লাহ তাকে ঘরে বসিয়েও বেইজ্জতি করবেন। (তিরমিযী শরীফ)
মৃতপ্রানী, রক্ত ও শুকরের গোস্ত খাওয়া হারাম
আল্লাহ তায়ালা বলেন-
قل لا اجد فيما اوحي الى محرما على طاعم يطعمه الا ان يكون ميتة اودما مسفوحا او لحم خنزير فانه رجس او فسقا اهل لغيرالله به
হে রাসুল ﷺ আপনি বলুন আমার কাছে যে ওহী পাঠানো হয়েছে তাতে আমি ভক্ষনকারীর জন্য কোন হারাম বস্ত পাই না একমাত্র মৃতপ্রানী, প্রবাহিত রক্ত অথবা শুকরের গোস্ত ছাড়া। এই সব বস্তু অপবিত্র ও অবৈধ এছাড়া আছে যে প্রানি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে জবাই করা হয় তাও হারাম। (সুরা আনআম-১৪৫)
নিজের পিতা ছাড়া অন্যকে বাবা ডাকা হারাম
রাসুলে করীম ﷺ ইরশাদ করেছেন-
من ادعى ابافى الاسلام غير ابيه فالجنة عليه حرام
যে ব্যাক্তি জেনে বুঝে নিজের পিতা ছাড়া অন্যকে পিতা ডাকে তার জন্য জান্নাত হারাম। (বুখারী ও মুসলিম শরীফ)
গালীগালাজ করা ও অভিশাপ দেয়া হারাম
রাসুল ﷺ বলেছেন-
سباب المسلم فسوق و قتاله كفر
মুসলমানকে গালি দেয়া পাপ এবং তাকে হত্যা করা কুফুরী। (বুখারী শরীফ)
রাসুল ﷺ ইরশাদ করেন, মুমিন বান্দা অভিশাপকারী হবে না। (তিরমিযী)
ষড়যন্ত্র মূলক বিশ্বাস ঘাতকতা করা হারাম
প্রিয় নবী ﷺ বলেন, কেয়ামতের দিন প্রত্যেক বিশ্বাস ঘাতকের নিদর্শন থাকবে এবং বলা হবে এটা অমুকের বিশ্বাস ঘাতকতার নিদর্শন। (বুখারী ও মুসলিম শরীফ)
আমানতের খেয়ানত করা হারাম
প্রিয় নবী ﷺ বলেন, চারটি কু-স্বভাব যার মধ্যে থাকবে সে মোনাফেক বলে বিবেচিত হবে। আর সেগুলো হচ্ছে যখন তার কাছে আমানত রাখা হয় তখন সে তা খেয়ানত করে, যখন সে কথা বলে মিথ্যা বলে, যখন সে অঙ্গিকার করে বিশ্বাসঘাতকতা করে, যখন ঝগড়া করে অশ্লীল কথা বলে। (বুখারী ও মুসলিম শরীফ)
পরনিন্দা ও চোগলখুরী করা হারাম
আল্লাহ তায়ালা বলেন-
ولا يغتب بعضكم بعضا
তোমাদের কেউ যেন কারো গীবত না করে। (সুরা হুজুরাত-১২)
গীবত হচ্ছে কারো সম্পর্কে এমন কথা বলা যা সে পছন্দ করে না।
চোগলখুরী হচ্ছে একজনের কথা অন্যজনের কাছে লাগানো।
রাসুল ﷺ বলেছেন, চোগলখোর জান্নাতে প্রবেশ করবে না। (বুখারী শরীফ)
নামাজ ছেড়ে দেওয়া হারাম
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ পাক বলেন-
ما سلككم فى سقر؟ قالوا لم نك من المصلين ولم نك نطعم المسكين
কোন বস্তু তোমাদেরকে সাকারে অর্থাৎ দোজখে নিয়ে আসল? তারা বলবে আমরা নামাজি ছিলাম না। (সুরা মুদ্দাস্সির-৪২)
প্রিয় নবী ﷺ বলেন, একজন মুসলিম এবং একজন অমুসলিমের মাঝে পার্থক্যে হলো নামাজ পড়া ও নামাজ না পড়া। (মুসলিম শরীফ)
যাকাত না দেয়া হারাম
আল্লাহ তায়ালা বলেন-
ولا يحسبن الذين يبخلون بما اتهم الله من فضله هو خيرا لهم بل هوشرلهم سيطوقون ما بخلو به يوم القيمة
তাদেরকে আল্লাহ পাক দয়া করে যা কিছু দিয়েছেন তা নিয়ে যারা কৃপনতা করে তারা যেন এমন ধারনা না করে যে উহা তাদের জন্য মঙ্গলজনক বরং উহা তাদের জন্য ক্ষতিকর কেয়ামতের দিন তারা যা নিয়ে কৃপনতা করে ছিল তা তাদের গলায় বেড়ী আকারে পরিয়ে দেওয়া হবে। (সুরা আলে ইমরান- ১৮০)
রমজানের রোজা না রাখা হারাম
আল্লাহ তায়ালা বলেন-
فمن كان منكم الشهر فليصمه ومن كان منكم مريضا او على سفر فعدة من ايام اخر
অতপর তোমাদের মধ্যে যে ব্যাক্তি এ মাসটিতে উপস্থিত থাকে সে যেন তার রোজা রাখে, আর যে ব্যাক্তি অসুস্থ্য হয় অথবা সফরে থাকে সে অন্য দিনগুলিতে তা পূর্ন করবে। (সুরা বাকারা-১৮৫)
সামর্থ থাকা সত্ত্বেও হজ্জ না করা হারাম
আল্লাহ পাক বলেন-
ولله على الناس حج البيت من استطاع اليه سبيلا ومن كفر فان الله غني عن العالمين
মানুষের মধ্যে যার এ ঘর পর্যন্ত পৌছার সামর্থ্য আছে তার জন্য আল্লাহর উদ্দেশ্যে এ ঘরের হজ্জ করা ফরজ। অতএব, যে ব্যাক্তি আল্লাহর এই হুকুম অস্বিকার করল সে যেন জেনে নেয় আল্লাহ সমগ্র জগত থেকে অমুখাপেক্ষী। (সুরা আলে ইমরান-৭৯)
মহিলাদের বেপর্দা হওয়া হারাম
আল্লাহ তায়ালা বলেন-
ولا تبرجن تبرج الجاهلية الاولى
তোমরা জাহেলিয়্যাতের উলঙ্গপনার মত উলঙ্গ হয়ো না। (সুরা আহযাব-৩৩)
কোন মহিলা তার সৌন্দর্য্য ও ফেতনা সৃষ্টিকারী আকর্ষনীয় স্থান সমূহ পর পুরুষদের সামনে প্রকাশ করাকে তাবাররুজ বলে।
নারী বিনা কারনে স্বামীকে ডিভোর্স দেয়া হারাম
প্রিয় নবী ﷺ বলেছেন যে, কোন মহিলা যুক্তিসঙ্গত কারন ছাড়া স্বামীকে ডিভোর্স দেয় তার জন্য জান্নাতের সুগন্ধও হারাম। (আবু দাউদ ও তিরমিযী)
স্বামী-স্ত্রী সম্পর্কিত কোন গোপন কথা ফাস করা হারাম
আল্লাহ পাক বলেন-
فالصلحات قانتت حافظات للغيب بما حفظ الله
সৎকর্মশীল নারীগন বিনয়াবনতা আল্লাহ যা সংরক্ষন করেছেন পুরুষদের অনুপস্থিতিতে তা তারা হেফাজত কারিনী। (সুরা নিসা-৩৪)
রাসুল ﷺ ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই সেই ব্যাক্তি কেয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানুষ হিসাবে গন্য হবে যে তার স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়। অতপর সে সব গোপন কথা ফাস করে দেয়। (মুসলিম শরীফ)
মহিলা স্বামীর বিছানায় আসতে রাজি না হওয়া হারাম
রাসুলে কারীম ﷺ ইরশাদ করেছেন- যখন কোন মহিলার স্বামী তার স্ত্রীকে সহবাসের উদ্দেশ্যে নিজের বিছানায় ডাকে আর সে মহিলা তা অস্বিকার করে সকাল পর্যন্ত ফেরেশতারা তাকে লা’নত বা অভিশাপ দিতে থাকে। (বুখারী ও মুসলিম)
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি করা হারাম
প্রিয় নবী ﷺ বলেছেন, যে ব্যাক্তি কোন মহিলাকে তার উপর তাখবীব করে সে আমার উম্মত না। (আবু দাউদ শরীফ)
তাখবীব অর্থ হচ্ছে- স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানোর উদ্দেশ্যে মিথ্যা প্রবঞ্চনা ও ফাসাদসৃষ্টি করা।
No comments:
Post a Comment