Wednesday, April 13, 2022

হযরত মির্যা মাযহার রহ. এর ঘটনা । ইসলাম শিক্ষার হাতেখড়ি । পর্ব - ২৩

Share it Please

এক আল্লাহ ওয়ালা বুযুর্গ ছিলেন, যার নাম হযরত মির্যা মাযহার জানে-জানা রহ.। তিনি এত নাযুক স্বভাবী ছিলেন যে, একদিন তার দরবারে এক বাদশা আগমন করল এবং পানি পান করে পানির পেয়ালাটি তাকের উপর বাকা করে রাখল। এই দৃশ্য দেখে তিনি ধৈর্য ধারন করলেন। যদিও এতে তার মাথা ব্যাথা শুরু হয়ে গিয়েছিল। কিছুক্ষন পর বাদশা বললেন, হুজুর! আপনি যদি অনুমতি দেন তবে আপনার খেদমতের জন্য আমি একজন চাকর দিতে চাই এবং সেই চাকরের বেতন আমি দিব। বাদশাহর এই কথা শুনে তিনি বললেন, ভাই এতক্ষন তো আমি ধৈর্য্য ধরে ছিলাম কিন্তু এখন আর সহ্য হলো না। আপনি একজন বাদশাহ হয়েও জানেন না তাকের উপর পেয়ালা কিভাবে রাখতে হয়। পেয়ালাটি বাকাভাবে রেখে আমার মাথা ব্যাথা শুরু করে দিলেন। এই যখন আপনার অবস্থা, তবে আপনার চাকরের অবস্থা কি হবে। আমাকে মাফ করেন। আমার জন্য কোন চাকর দিতে হবে না। তিনি একদিন নামাজ পড়ার জন্য দিল্লির জামে মসজিদে যাওয়ার পথে দেখলেন একটি খাট বাকাভাবে রাখা আছে। অমনি তার মাথা ব্যাথা শুরু হয়ে গেল। এমনকি গায়ে দেওয়ার লেপের কোন সেলাই যদি বাকা হতো তা দেখলেও তার মাথা ব্যাথা শুরু হয়ে যেত। আল্লাহ পাক তার অন্তরে এলহাম করলেন, হে মাজহার! জানে-জানা, তোমার মেজাজ বড় নাজুক আমার এক বান্দী আছে খুবই কটু ভাষীনি। যদি তুমি তাকে বিবাহ কর এবং তার দুর্ব্যবহার সহ্য করে তাকে বিবাহ করে তাকে নিয়ে সংসার কর এবং তার দুর্ব্যবহার সহ্য করে তাকে নিয়ে সংসার কর তবে সমস্ত পৃথিবীতে আমি তোমার ডঙ্কা পিটিয়ে দিব। তোমাকে আমি এত সম্মান দান করব যে. সমগ্র বিশে^ তোমার সুনাম ছড়িয়ে পড়বে। তোমার দ্বারা আমি দ্বীনের বিরাট কাজ নিব। আল্লাহ পাকের এই ওলি কাল-বিলম্ব না করে বাড়ী থেকে রওয়ানা হয়ে গেলেন এবং ঐ মহিলাকে বিবাহ করলেন তারপর তো দিন-রাত তার কটু কথা কটু বাক্য শুনতে থাকলেন। তাই এর বিনিময়ে দুনিয়াতেই তিনি অনেক বড় পুরস্কার লাভ করলেন। তার খলীফা হযরত শাহ গোলাম আলী রহ.। হযরত শাহ গোলাম আলী রহ. এর খলীফা সিরিয়ার খালেদ কুর্দী রহ.। তারই সিলসিলায় বায়াত হয়েছেন তাফসীরে রুহুল মায়ানীর লেখক আল্লামা সায়্যিদ মাহমুদ আলূসী বাগদাদী রহ.। তারই সিলসিলায় দাখেল হয়েছেন আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী রহ.। এই ভাবে। আল্লাহ পাক বিশ^ময় তার ডঙ্কা পিটিয়ে দিয়েছেন।


No comments:

Post a Comment

Blogroll

About